সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান"- সংজ্ঞাটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর?
- খ)(2)
"সমাজবিজ্ঞান হলো সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন উপাদানটি বসবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতির সাধনে উক্ত উপাদানটির প্রভাব। অনস্বীকার্য- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান"— সংজ্ঞাটি ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম (Émile Durkheim)-এর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজ ও মানব আচরণের সামগ্রিক দিক নিয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে আলোচনা করে। অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান যেমন অর্থনীতি কেবল অর্থনৈতিক দিক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেবল রাজনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করে; কিন্তু সমাজবিজ্ঞান মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি, পরিবর্তন ও সমস্যাসহ সমাজের আদ্যোপান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ বিশ্লেষণ করে। এই কারণে সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'জৈবিক উপাদান' (বা জৈব উপাদান) বসবে।
সামাজিক জীবন ও মানব সমাজ গঠনে যে সকল উপাদান প্রভাব বিস্তার করে, তার মধ্যে অন্যতম হলো জৈবিক উপাদান। যেসব শারীরিক ও বংশগত বৈশিষ্ট্য মানুষের জীবনযাত্রা, সামাজিক আচার-আচরণ ও সমাজ কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলে, সেগুলোকে জৈবিক উপাদান বলা হয়।
উদ্দীপকের ছকে লিঙ্গ, গায়ের রং, বুদ্ধিমত্তা, দেহের গড়ন, রোগব্যাধি, নৃ-গোষ্ঠী এবং সভ্যতার বিকাশের মতো বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত মানুষের বংশগতি ও শারীরিক গঠনের ফল। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সমাজে ব্যক্তির ভূমিকা নির্ধারণ, শ্রমবিভাগ এবং সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। সুতরাং, ছকের কেন্দ্রস্থলের '?' চিহ্নিত উপাদানটি হলো সামাজিক জীবনের জৈবিক উপাদান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত উপাদানটি হলো 'জৈবিক উপাদান'। সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি সাধনে এই উপাদানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
জৈবিক উপাদান মানব সমাজের টিকে থাকা ও অগ্রগতির ভিত্তি নির্ধারণ করে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জনসংখ্যার ধারাবাহিকতা ও বংশবৃদ্ধি: মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে সংস্কৃতি ও সভ্যতার রূপান্তরের মূল ভিত্তি জৈবিক প্রজনন ক্ষমতা।
২. বুদ্ধিমত্তা ও আবিষ্কার: মানুষের উন্নত মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমত্তার ফলেই প্রযুক্তি, দর্শন, বিজ্ঞান ও শিল্পের বিকাশ সম্ভব হয়েছে, যা সভ্যতার মূল ভিত্তি।
৩. শ্রমবিভাজন: লিঙ্গ ও শারীরিক সক্ষমতার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক সমাজগুলোতে শ্রমবিভাগ সৃষ্টি হয়, যা সামাজিক স্তরবিন্যাস ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শারীরিক সামর্থ্য: জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য, শারীরিক গঠন ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা মানবসম্পদ হিসেবে সভ্যতার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা রাখে।পরিশেষে বলা যায়, যদিও সমাজ বিকাশে ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপাদান গুরুত্বপূর্ণ, তথাপি জৈবিক ভিত্তি ছাড়া সভ্যতার অস্তিত্ব ও বিকাশ অসম্ভব। তাই সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি সাধনে জৈবিক উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও