ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সুলতান সুলেমান বারবার অন্য একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অবশেষে দেশে ফিরে আসেন। অভিযানে তিনি যে ধন-সম্পদ অর্জন করেন তা শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেন। এক পর্যায়ে তিনি তাঁর রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধিশালী রাজ্যে পরিণত করেন।

  1. ক)

    তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    সতীদাহ প্রথা কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন'- এ কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সতীদাহ প্রথা হলো প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু সমাজের একটি অমানবিক প্রথা, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রীকে স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হতো।

    তৎকালীন ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক অন্ধবিশ্বাসের কারণে মনে করা হতো যে, স্বামীর সাথে আত্মাহুতি দিলে স্ত্রী পুণ্য লাভ করবে। এ প্রথার ফলে অসংখ্য নারীকে জোরপূর্বক চিতায় পুড়িয়ে হত্যা করা হতো। পরবর্তী সময়ে ১৯ শতকে রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে এই বর্বর প্রথা নিষিদ্ধ করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমানের কর্মকাণ্ডের সাথে গজনি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান মাহমুদ ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারতবর্ষ অভিযান করেন। প্রতিটি অভিযানে বিজয়ী হয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদ অর্জন করেন এবং সেসব সম্পদ নিয়ে নিজের রাজধানী গজনিতে ফিরে যান। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমানও বারবার অন্য একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করে বিজিত ধন-সম্পদ নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন।

    সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষ থেকে অর্জিত ধন-সম্পদ নিজের রাজধানী গজনির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজে লাগান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, পাঠাগার নির্মাণ করেন এবং আল-বিরুনি, ফেরদৌসীর মতো পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে গজনিকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমানও অভিযানের ধন-সম্পদ নিজ রাজ্যের শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করে রাজ্যকে সমৃদ্ধশালী করে তোলেন। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে সুলতান মাহমুদের কাজের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সুলতান মাহমুদ শুধু একজন সফল সেনানায়কই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন গজনি সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও এক মহান দূরদর্শী শাসক—উক্তিটি যথার্থ।

    সুলতান মাহমুদ সামরিক দিক থেকে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি। তিনি ১৭ বার ভারত অভিযান পরিচালনা করে প্রতিটিতেই অপরাজিত থাকেন এবং উত্তর ভারতের প্রবল প্রতাপশালী রাজাদের পরাস্ত করেন। মধ্য এশিয়া ও পারস্যের বিভিন্ন যুদ্ধেও তিনি অসামান্য রণকুশলতা দেখান।

    তবে তাঁর পরিচয় শুধু দিগ্বিজয়ী সেনানায়কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পিতা সবুক্তগীনের মৃত্যুর পর তিনি এক ক্ষুদ্র গজনি রাজ্যকে এক বিশাল ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেন। তিনি বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর স্বীকৃতি লাভ করে প্রথম 'সুলতান' উপাধি গ্রহণ করেন এবং স্বাধীন গজনি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন।

    তিনি বিজিত অঞ্চলের অর্জিত অর্থ দিয়ে গজনিকে মধ্য এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করেন। তিনি আল-বিরুনি, কবি ফেরদৌসী, দার্শনিক উনসুরি প্রমুখ বিখ্যাত পণ্ডিতদের রাজদরবারে স্থান দেন। এ ছাড়া স্থাপত্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে গজনিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। তাই বলা যায়, সুলতান মাহমুদ নিছক একজন সামরিক বিজয়ী বা সেনানায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গজনি সাম্রাজ্যের নির্মাতা ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন