ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
উনিশ শতকে গণচীনে মাঞ্জু শাসকের অপশাসনের বিরুদ্ধে একদল তরুণ সোচ্চার হয়। তারা বক্সার বা আই-হো-টুয়ান নামে পরিচিত। তারা চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ঐ শাসক শংকিত হন।
- ক)(1)
ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দৃশ্যপট বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের কোন ঘটনার সাথে মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ার ন্যায় উত্ত সংগ্রামে কী ধরনের প্রভাব পড়েছিল?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গতিশীল ও সংহত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় মুজিবনগর সরকারকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত ও সমর্থন বাড়ানোর জন্য ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি করে এই উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত তরুণদের সংগঠিত হয়ে শাসকের অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দৃশ্যপট বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের 'গেরিলা যুদ্ধ' বা 'মুক্তিফৌজ/মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ আন্দোলনের' সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চীনের একদল সাহসী তরুণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে 'বক্সার' নামে পরিচিত হয় এবং তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা শাসকগোষ্ঠীকে শঙ্কিত করে।
অনুরূপভাবে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ যুবকেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা বাহিনী (যেমন- ক্র্যাক প্লাটুন ইত্যাদি) গড়ে তোলেন। তাঁরা দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প, রসদ সরবরাহ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে হানাদার বাহিনীকে চরম আতঙ্ক ও বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেন। উদ্দীপকের তরুণদের প্রতিরোধ লড়াইয়ের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের এই প্রতিরোধ আন্দোলনও শত্রুসেনাদের মধ্যে প্রবল ভীতি সৃষ্টি করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের ফলে শাসক যেমন ভীত ও শঙ্কিত হন, তেমনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ ও প্রতিরোধ লড়াই পাকিস্তানি শাসক ও সেনাবাহিনীর ওপর গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক প্রভাব ফেলেছিল।
বক্সারদের প্রতিরোধের মুখে চীনের শাসক যেমন অস্তিত্বের সংকটে পড়ে শঙ্কিত হয়েছিলেন, তেমনি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দিশেহারা করে দেয়। দিনের পর দিন মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত হামলা, সেতু ধ্বংস, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সম্মুখ সমরে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কারণে পাকিস্তানি সেনারা নিজেদের দুর্গে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।
এর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ফলে উদ্দীপকের মতোই তরুণদের তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পরাজয় ত্বরান্বিত করে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও