ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    রাজনৈতিক ভূগোল কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নিমিত্তবাদ ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' বিষয়টির উল্লিখিত শাখার বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' বিষয়টি পাঠের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভৌগোলিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সীমানা, ভূ-রাজনীতি, সরকারের গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পারস্পরিক সম্পর্ক যে শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়, তাকে রাজনৈতিক ভূগোল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিমিত্তবাদ (Environmental Determinism) হলো ভূগোলের এমন একটি প্রাচীন মতবাদ বা ধারণা, যেখানে বিশ্বাস করা হয় যে মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, আচরণ ও সামাজিক বিকাশ সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও নির্ধারিত হয়।

    এই মতবাদের মূল প্রবক্তা ছিলেন ফ্রেডারিক র‍্যাটজেল এবং পরবর্তীতে এলেন চার্চিল সেম্পল। তাঁদের মতে, মানুষ প্রকৃতির দাস এবং মানুষের সমস্ত ক্রিয়াকলাপ, শারীরিক গঠন ও মানসিক চিন্তাভাবনা ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণকে অতিক্রম করার ক্ষমতা মানুষের নেই বলেই এ ধারণায় মনে করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' বিষয়টি হলো 'মানব ভূগোল', কারণ মানবজাতিকে কেন্দ্র করে এবং মানুষের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক নিয়ে এই বিষয়টি গড়ে উঠেছে। এর উল্লিখিত শাখাটি হলো 'অর্থনৈতিক ভূগোল'। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:

    অর্থনৈতিক ভূগোল হলো মানব ভূগোলের অন্যতম প্রধান একটি শাখা। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে অভিযোজিত হয়ে মানুষ জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে যেসব অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালনা করে, সেগুলোর স্থানিক বণ্টন ও সম্পর্ক এই শাখায় আলোচনা করা হয়।

    অর্থনৈতিক ভূগোলের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:
    ১. অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের পর্যায়: মানুষের প্রাথমিক (কৃষি, বনজ সম্পদ আহরণ, মৎস্য শিকার), মাধ্যমিক (শিল্প-কারখানা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ), এবং তৃতীয়ক ও চতুর্থক পর্যায়ের (বাণিজ্য, পরিবহন, সেবা) কার্যাবলি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
    ২. সম্পদ ব্যবস্থাপনা: বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের (খনিজ, বনজ, কৃষিজ সম্পদ) অবস্থান, আহরণ, বণ্টন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
    ৩. বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা ব্যাখ্যা করা অর্থনৈতিক ভূগোলের প্রধান উদ্দেশ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত বিষয়টি হলো 'মানব ভূগোল' (Human Geography)। পৃথিবী ও মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বোঝার জন্য মানব ভূগোল পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পরিবেশের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়া জানা: মানুষ কীভাবে ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে বসবাস করছে এবং পরিবেশকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার ও রূপান্তর করছে, তা মানব ভূগোল পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।

    ২. জনসংখ্যা সম্পর্কিত জ্ঞান: বিশ্বের জনসংখ্যার ঘনত্ব, জন্ম ও মৃত্যুহার, স্থানান্তর বা অভিবাসন এবং জনসংখ্যার বণ্টন ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে জানা সম্ভব হয়, যা কার্যকর জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে।

    ৩. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন: প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক বণ্টন, টেকসই ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড (কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য) সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার কৌশল মানব ভূগোল পাঠ থেকে অর্জিত হয়।

    ৪. নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা: দ্রুত নগরায়ণের ফলে উদ্ভূত সমস্যা সমাধান, গ্রামীণ ও নগর বসতির সুপরিকল্পিত বিন্যাস ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে মানব ভূগোলের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুধাবন: বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা, ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী এবং সামাজিক আচার-আচরণের স্থানিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক অনুধাবনে মানব ভূগোল সহায়তা করে।

    অতএব, একটি দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে মানব ভূগোল পাঠের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন