ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ধর্মযাজক পিতার পুত্র পিটার জন্মের পর থেকেই দেখেছেন কালো চামড়ার মানুষের প্রতি সাদাদের ঘৃণা-বঞ্চনা। এই অমানবিক বিষয়টি পিটারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। তিনি নিজেও কালো চামড়ার অধিকারী হওয়ায় সাদাদের সাথে একসাথে স্কুলে পড়তে পারেননি। তাঁর প্রতিবাদী পিতামহ বর্ণবাদী বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পিতামহের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের মাধ্যমেই পিটার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- ক)(1)
গান্ধীজিকে 'মহাত্মা' উপাধি দিয়েছিলেন কে?
- খ)(2)
Black Act কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পিটারের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বর্ণবাদবিরোধী নেতার সাদৃশ্য রয়েছে? তার পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
নিজের জীবন উৎসর্গ করে উক্ত নেতা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গান্ধীজিকে 'মহাত্মা' উপাধি দিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সভাল সরকার ভারতীয় ও এশীয়দের ওপর একটি বৈষম্যমূলক আইন জারি করে, যা 'ব্ল্যাক অ্যাক্ট' (Black Act) বা 'এশিয়াটিক রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট' নামে পরিচিত। এই আইন অনুযায়ী ৮ বছরের বেশি বয়সী সকল এশীয়দের আঙুলের ছাপ দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিতে হতো এবং তা সর্বদা সাথে রাখা বাধ্যতামূলক ছিল। মহাত্মা গান্ধী এই অসম্মানজনক ও বর্ণবাদী আইনের বিরুদ্ধে প্রথম 'সত্যাগ্রহ' আন্দোলন শুরু করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পিটারের সাথে পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদবিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাদৃশ্য রয়েছে।
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি ১৯২৯ সালে আটলান্টায় এক ধর্মযাজক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মার্কিন সমাজে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর চলা তীব্র বর্ণবৈষম্য প্রত্যক্ষ করেন এবং নিজে পৃথক স্কুলে পড়াশোনা করতে বাধ্য হন। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার, সম-অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য অহিংস গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর পুরো জীবন কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উৎসর্গ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের বিনিময়ে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন—উক্তিটি যথার্থ।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটাধিকার, শিক্ষা, চাকরি এবং নাগরিক সুবিধায় চরম বৈষম্যের শিকার হতো। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র 'সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্স'-এর মাধ্যমে এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ১৯৫৫ সালের মন্টগোমারি বাস বয়কট, ১৯৬৩ সালের ঐতিহাসিক 'মার্চ অন ওয়াশিংটন' এবং সেখানে দেওয়া তাঁর বিখ্যাত 'আই হ্যাভ আ ড্রিম' (I Have a Dream) ভাষণ কৃষ্ণাঙ্গদের মনে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে।
তাঁর অহিংস কিন্তু আপসহীন আন্দোলনের ফলেই ১৯৬৪ সালে মার্কিন সরকার 'সিভিল রাইটস অ্যাক্ট' (নাগরিক অধিকার আইন) এবং ১৯৬৫ সালে 'ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট' পাস করতে বাধ্য হয়, যা কৃষ্ণাঙ্গদের আইনগত সম-অধিকার নিশ্চিত করে। কিন্তু এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে তাঁকে বারবার কারাবরণ ও হত্যার হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। পরিশেষে ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সুতরাং, নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েই তিনি বর্ণবাদের প্রাচীর ভেঙে কৃষ্ণাঙ্গদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও