কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিক একজন ধান চাষী। গত বছর সে ধানের সাথে এক বিশেষ প্রজাতির চিংড়ি চাষের সিদ্ধান্ত নেয়। সে যে জমি নির্বাচন করে তাতে ৪/৫ মাস বৃষ্টির পানি থাকে। প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য সে। মৎস্য কর্মকর্তার কাছে যায়। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে ধানক্ষেতে উত্ত। প্রজাতির চিংড়ি চাষ করে সে লাভবান হয়।
- ক)(1)
ফাইটোপ্লাংকটন কী?
- খ)(2)
মাছ কেন শুকানো হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত উত্ত চিংড়ির বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে উল্লিখিত চিংড়ি চাষ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পানিতে ভাসমান আণুবীক্ষণিক বা অতিক্ষুদ্র উদ্ভিদকণাকে ফাইটোপ্লাংকটন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছের পচন রোধ করে দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে মাছ শুকানো হয়। মাছে উপস্থিত অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পানির উপস্থিতিতে অণুজীব এবং এনজাইম দ্রুত ক্রিয়াশীল হয়ে মাছকে পচিয়ে ফেলে। মাছের শরীর থেকে জলীয় অংশ বা আর্দ্রতা কমিয়ে ১৫-১৮% এ নামিয়ে আনলে অণুজীবের বৃদ্ধি ও এনজাইমের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে মাছ দীর্ঘদিন খাবার উপযোগী থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ধানক্ষেতে ৪-৫ মাস বৃষ্টির পানি আটকে থাকার উপযোগী যে চিংড়ি চাষের কথা বলা হয়েছে, তা হলো গলদা চিংড়ি। গলদা চিংড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. এরা মূলত মিঠাপানির চিংড়ি হলেও প্রজনন ও প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য কিছুটা লোনা পানির প্রয়োজন হয়।
২. এদের দ্বিতীয় জোড়া হাঁটার পা অত্যন্ত সুগঠিত, দীর্ঘ এবং চিমটার মতো সাঁড়াশিযুক্ত।
৩. পুরুষ গলদা চিংড়ির মাথা এবং সাঁড়াশি স্ত্রী গলদার চেয়ে বেশ বড় হয়।
৪. এরা সর্বভুক প্রকৃতির এবং পানির তলদেশে বসবাস করে গলিত জৈব পদার্থ, ছোট পোকা, শৈবাল ইত্যাদি খায়।
৫. উপযুক্ত পরিবেশে এরা দ্রুত বাড়ে এবং ধানক্ষেতের অগভীর পানিতেও এদের সফলভাবে চাষ করা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধানক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি।
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের মাধ্যমে একই জমি থেকে একই সাথে ধান ও চিংড়ি দুটি মূল্যবান ফসল উৎপাদিত হয়। ধানক্ষেতের কীটপতঙ্গ, ক্ষতিকর পোকার লার্ভা ও আগাছা চিংড়ির প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে চাষিকে অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ করতে হয় না এবং খরচ কম হয়।
তাছাড়া, চিংড়ির মলমূত্র জমিতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে যোগ হয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও খরচ হ্রাস পায়। পাশাপাশি জমিতে ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের ব্যবহার প্রয়োজন হয় না, যা পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ ফসল নিশ্চিত করে।
গলদা চিংড়ির বাজারমূল্য অনেক বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। ফলে অল্প ব্যয়ে কৃষকের অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি হয়, যা কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা আনে। অতএব, উক্তিটি যথার্থ যে ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষ অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও