ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
দিল্লির সুলতান নাসির উদ্দীন অত্যন্ত ধার্মিক ও প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের দুঃখ লাঘব করার জন্য রাতে ছদ্মবেশে পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা দেখতেন। সুলতান নিজেই আটার বস্তা মাথায় নিয়ে প্রজাদের কাছে পৌছিয়ে দিতেন। আবার কখনও তার স্ত্রী হতদরিদ্র গরিব প্রসূতি মায়েদের সেবায় ধাত্রী হিসেবে সহযোগিতা করতেন। তাদের ঘরে কোনো কর্মচারী ছিল না। নিজেই' রাঁধুনির কাজ সেরে নিতেন। তদুপরি সুলতান সরকারের কোষাগারের অর্থ গ্রহণ না করে টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- ক)(1)
'খলিফা' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'খুলাফায়ে রাশেদিন' কাদের বলা হয়? ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দিল্লির সুলতান নাসির উদ্দীনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহান খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রজাদের কল্যাণে উত্ত খলিফার গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'খলিফা' শব্দের অর্থ প্রতিনিধি, উত্তরাধিকারী বা স্থলাভিষিক্ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম জাহানের শাসনভার গ্রহণকারী চারজন প্রতিনিধি বা খলিফাকে একত্রে 'খুলাফায়ে রাশেদিন' বা ন্যায়পরায়ণ খলিফাগণ বলা হয়।
তাঁরা হলেন হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত ওসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)। তাঁরা ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক উপায়ে ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন। তাঁদের শাসনামল সততা, ইনসাফ ও কল্যাণমুখী শাসনের জন্য ইতিহাসে অনন্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান নাসির উদ্দীনের চরিত্র ও কার্যকলাপের সাথে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর গভীর মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা.) ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রজাহিতৈষী, ন্যায়পরায়ণ ও সহজ-সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত শাসক। তিনি রাতের আঁধারে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা স্বচক্ষে দেখার জন্য ছদ্মবেশে মদিনার অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতেন। এক রাতে তিনি অনাহারী শিশুদের কান্নার শব্দ শুনে নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করে নিয়ে গিয়ে স্বহস্তে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া প্রসূতি নারীর প্রসবকালে তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম ধাত্রীর কাজ করেছিলেন।
উদ্দীপকের সুলতান নাসির উদ্দীনের মধ্যেও ছদ্মবেশে প্রজাদের অবস্থা দেখা, নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন এবং তাঁর স্ত্রীর প্রসূতি মায়েদের সেবা করার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে হযরত ওমর (রা.)-এর আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং, তাঁর সাথে খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর পূর্ণ মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজাদের সার্বিক কল্যাণে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) যুগান্তকারী ও প্রজাহিতৈষী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। নিচে তাঁর গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো আলোচনা করা হলো:
১. বায়তুল মালের অর্থ বণ্টন ও পেনশন ব্যবস্থা: হযরত ওমর (রা.) জনকল্যাণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা 'বায়তুল মাল' প্রতিষ্ঠা ও সুবিন্যস্ত করেন। তিনি মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সমাজের সকল দুর্বল, এতিম, বিধবা ও বৃদ্ধ নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করেন।
২. যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: তিনি প্রজাদের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাঘাট, পুল, সরাইখানা ও ডাক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। কৃষির উন্নয়নের জন্য নদী ও খাল খনন (যেমন 'নাহরে আমিরুল মুমিনীন') করে সেচব্যবস্থা উন্নত করেন।
৩. দুর্ভিক্ষ ও মহামারী মোকাবেলা: ঐতিহাসিক 'রমাদা'র দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে প্রজাদের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন এবং সাধারণ মানুষের মতো অনাড়ম্বর খাদ্য গ্রহণ করেন।
৪. সরাসরি তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণ: প্রজারা যেন কোনো শাসকের দ্বারা নিপীড়িত না হয়, সেজন্য তিনি গভর্নর ও কর্মচারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখতেন এবং হজের সময় সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ করতেন। রাতে ছদ্মবেশে ঘুরে তিনি অভাবগ্রস্তদের নিজ কাঁধে খাদ্য পৌঁছে দিতেন।এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হযরত ওমর (রা.) একটি প্রকৃত কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও