ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রতনপুর বিশাল আয়তনের এবং বহুগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চল। সেখানে আরো কতিপয় ক্ষুদ্র অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিছুদিন পরেই ঐ অঞ্চলের বিদেশি শাসক বহুমুখী সৃষ্ট জটিলতার কারণে অঞ্চলটিকে ভেঙে দেন কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিশেষ শ্রেণি প্রথমে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে এটি অর্থনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয় যা কার্যকরভাবে ফলপ্রসূ হয়েছিল।
- ক)(1)
মহারানি ভিক্টোরিয়া কত তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘোষণা করেন?
- খ)(2)
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা ভারতবর্ষে কোন ঘটনাকে মনে 'করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।.
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থনৈতিক আন্দোলনের সাথে স্বদেশী আন্দোলনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহারানি ভিক্টোরিয়া ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘোষণা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্ন ও অসন্তোষজনক ছিল। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়েই প্রস্তাবিত সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে তা প্রত্যাখ্যান করে। জওহরলাল নেহেরু এই আইনকে 'দাসত্বের এক নতুন সনদ' এবং 'শুধু ব্রেকযুক্ত কিন্তু ইঞ্জিনহীন গাড়ি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এটিকে 'সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেন। তবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বিরোধিতা করলেও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের অংশটুকু মেনে নিয়ে ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা ভারতবর্ষে ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' এবং এর প্রতিক্রিয়াকে মনে করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিশাল আয়তনের ও বহু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত রতনপুর অঞ্চলটিতে প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে বিদেশি শাসক ভেঙে দেন। এর প্রতিবাদে একটি শ্রেণি প্রথমে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ও পরবর্তীতে অর্থনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলে।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে বাংলা প্রেসিডেন্সি ছিল বিশাল আয়তনের (বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা সমন্বয়ে) এবং বহুলোক অধ্যুষিত অঞ্চল। ব্রিটিশ বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুন্নয়নের কারণ দেখিয়ে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৎকালীন হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও উচ্চবর্ণের বিশেষ শ্রেণি তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। তারা প্রথমে সংবাদপত্র, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলেও পরে তা ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের অর্থনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাটি সুস্পষ্টভাবে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অর্থনৈতিক আন্দোলনটি মূলত বঙ্গভঙ্গ-উত্তর ঐতিহাসিক 'স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট আন্দোলনের' প্রতীক। নিম্নে উভয় আন্দোলনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. আন্দোলনের ধরন ও উদ্দেশ্য: উদ্দীপকে বিদেশি শাসকের বিভাজনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অনুরূপভাবে, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের দাবিতে কংগ্রেস ও উচ্চবর্ণের হিন্দুরা 'স্বদেশী আন্দোলন' শুরু করে, যার প্রধান নীতি ছিল বিলাতি পণ্য বর্জন (বয়কট) এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার প্রসার। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ বাণিজ্যে আঘাত হেনে রাজনৈতিক দাবি আদায় করা।
২. অর্থনৈতিক প্রভাব: উদ্দীপকের অর্থনৈতিক আন্দোলন ফলপ্রসূ হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। বাস্তবেও স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বিলাতি কাপড়, লবণ ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে বাংলাসহ ভারতে টেক্সটাইল মিল, সাবান ও চর্মজাত দ্রব্যাদির দেশীয় কলকারখানা, জাতীয় ব্যাংক এবং জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
৩. রাজনৈতিক ফলাফল: বয়কট আন্দোলনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে। অর্থাৎ, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে আন্দোলনটি সম্পূর্ণ কার্যকর হয়েছিল।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত অর্থনৈতিক আন্দোলন এবং ইতিহাসের স্বদেশী আন্দোলন প্রকৃতি, কৌশল এবং সফলতার দিক থেকে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ ও অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও