গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: মুনা তার বাবা-মায়ের সাথে রাঙামাটি বেড়াতে গিয়ে দেখল, মেয়েরা তাদের বিয়ের পর নিজের পিতার বাড়িতে স্বামীসহ বসবাস করে।
দৃশ্যপট-২: সোহেলী একজন স্কুল শিক্ষক। তিনি শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর-ননদ নিয়ে বসবাস করেন। সন্তান লালন-পালনে বাড়ির সকলে তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন।

  1. ক)

    পরিকল্পিত পরিবার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “ধর্মীয় শিক্ষা শিশুর মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে”– বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ কোন ধরনের পরিবারের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ সোহেলীর পরিবারের সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই বিদ্যমান— উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয় ও অন্যান্য সম্পদের মধ্যে সুষ্ঠু ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা পরিবারকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ধর্মীয় শিক্ষা শিশুকে সত্যবাদিতা, সততা, সহমর্মিতা, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্যায়ের প্রতি অনীহা ইত্যাদি মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ শেখায়। শৈশবে অর্জিত ধর্মীয় অনুশাসন ও অনুভূতির মাধ্যমে শিশুর মধ্যে ভালো-মন্দের পার্থক্যবোধ তৈরি হয়, যা তার চরিত্র গঠন ও সঠিক সামাজিক আচরণে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ 'মাতৃবাস' (Matrilocal) বা মাতৃপ্রধান পরিবারের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করা হয়েছে।

    যে পরিবার ব্যবস্থায় বিয়ের পর বর বা স্বামী স্ত্রীর পিতৃগৃহে গিয়ে বসবাস শুরু করে, তাকে মাতৃবাস পরিবার বলা হয়। উদ্দীপকে মুনা রাঙামাটিতে গিয়ে দেখেছে বিয়ের পর মেয়েরা নিজেদের বাবার বাড়িতে স্বামীর সাথে বসবাস করে। বাংলাদেশে গারো এবং খাসিয়াদের মতো কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে মূলত এ ধরনের পরিবার ও বাসস্থানের রীতি প্রচলিত দেখা যায়। এটি কর্তৃত্ব ও বাসস্থানের ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবার কাঠামো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ সোহেলীর পরিবারটি একটি যৌথ পরিবার। যৌথ পরিবারে বসবাস করার সুবিধা ও অসুবিধা উভয় দিকই বিদ্যমান— উক্তিটি যথার্থ।

    সুবিধাসমূহ:
    ১. সন্তান লালন-পালনে সহায়তা: কর্মজীবী মা হিসেবে সোহেলীর অনুপস্থিতিতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও অন্যান্য সদস্য সন্তানের দেখাশোনা করেন, যা শিশুর সুরক্ষায় সহায়ক।
    ২. পারিবারিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা: বিপদে-আপদে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানসিক শক্তি বজায় থাকে।
    ৩. পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিকীকরণ: পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ থাকে এবং শিশু যৌথ সম্পর্কের মধ্যে মানবিক গুণাবলি শিখে বড় হয়।

    অসুবিধাসমূহ:
    ১. ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অভাব: যৌথ পরিবারে সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা প্রায়শই ব্যাহত হয়।
    ২. মতানৈক্য ও কোন্দল: একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থেকে পারিবারিক অশান্তি বা মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।
    ৩. অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ: কর্মজীবী নারীর ওপর ঘরের সকল সদস্যের সেবাযত্ন ও রান্নাবান্নার বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হতে পারে।

    সুতরাং, যৌথ পরিবারের পারস্পরিক সহায়তা যেমন সোহেলীর জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও এখানে বিদ্যমান রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন