সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

শ্যামলপুর ও কমলগঞ্জ একটি রাষ্ট্রের দুটি অঞ্চল। দুটি অঞ্চলের সকল অধিবাসী মুসলিম হলেও তাদের জীবনধারায় পার্থক্য সুস্পষ্ট। শ্যামলপুরে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যে অর্থ উপার্জিত হয় তার সবটাই কমলগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যয় হয়। এমনকি ব্যাংক-বিমাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ কমলগঞ্জে গড়ে উঠে। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমলগঞ্জের মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় শ্যামলপুরে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী একসময় বিক্ষুব্ধ হয়ে স্বাধিকারের দাবি জানায়।

  1. ক)

    লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলপুর কমলগঞ্জের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয়তাবাদ বলতে একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসমষ্টির মধ্যে গড়ে ওঠা এমন এক গভীর মানসিক ও রাজনৈতিক অনুভূতিকে বোঝায়, যা তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতীয়তাবাদের অনুভূতি একটি জনসমাজকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষার প্রেরণা যোগায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত শ্যামলপুর ও কমলগঞ্জের মধ্যকার বৈষম্যের সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রে উভয় অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম হলেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চরম শোষণ ও বৈষম্য চালায়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট রপ্তানি করে উপার্জিত সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পায়নে ব্যয় করা হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিমাসহ বৃহৎ কলকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপন করা হয়। উপরন্তু সরকারি চাকরি ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগে প্রবল বৈষম্য করা হতো।

    উদ্দীপকেও দেখা যায় শ্যামলপুরে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি আয় কমলগঞ্জের অবকাঠামোয় ব্যয় হয় এবং কমলগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও চাকরিতে সুবিধা দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের চিত্রকে সরাসরি নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেছনে উদ্দীপকের অনুরূপ পরিস্থিতি চালিকাশক্তি হিসেবে প্রেরণা যুগিয়েছিল"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে যে ধর্মীয় অভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা, অর্থনৈতিক শোষণ, চাকরিতে বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের জীবনে চরম হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের শ্যামলপুরের মানুষের মতোই বাঙালিরা অনুভব করে যে তাদের সম্পদ লুণ্ঠিত হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হচ্ছে।

    এই চরম বৈষম্যের কারণেই পূর্ব পাকিস্তানে একের পর এক আন্দোলন দানা বাঁধে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং বিশেষ করে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশকৃত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ছিল এই শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির বাঁচার দাবি। ৬ দফার মূল দাবিই ছিল অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়ের মূল ভিত্তিই ছিল বৈষম্যমুক্তির প্রত্যয়। পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তা যখন জনগণের রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।

    অতএব, অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে স্বাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি, যার প্রতিফলন উদ্দীপকের ঘটনায় স্পষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন