‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

কুসংস্কার, অশিক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময়ই প্রতিবাদী এবং সোচ্চার জামান সাহেব। কিন্তু তার প্রতিবাদের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি সহজভাবে অনেক বিষয়ের সমাধান করতেন। এমনকি তিনি অন্যায়কারীর সাথেও বিরোধ মীমাংসায় অস্ত্রের ব্যবহার সমর্থন করতেন না। বিরোধ মীমাংসায় তার এই অহিংস পদ্ধতি প্রশংসার দাবিদার।

  1. ক)

    নেলসন ম্যান্ডেলা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    ডেসমন্ড টুটুকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত কর্মপদ্ধতি তাকে একজন সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করেছিল- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার মেভেজো গ্রামে (ট্রান্সকেই অঞ্চল) জন্মগ্রহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন অহিংস লড়াই এবং শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ সব মানুষের মানবাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের জন্য ডেসমন্ড টুটুকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' বলা হয়।

    ডেসমন্ড টুটু ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার একজন অ্যাংলিকান আর্চবিশপ এবং বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন জাতিগত বৈষম্য ও কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করেছিল, তখন তিনি গির্জার মঞ্চ ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। কোনো প্রকার হিংসা বা অস্ত্রের আশ্রয় না নিয়ে নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান থেকে তিনি সত্য ও ন্যায়ের বার্তা প্রচার করেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি দেশটির বর্ণবাদ-উত্তর ক্ষত নিরাময়ে গঠিত 'সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন'-এর নেতৃত্ব দেন। তাঁর এই নৈতিক অবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের কারণেই তাঁকে 'দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জামান সাহেবের অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মপদ্ধতি পাঠ্যবইয়ের ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    মহাত্মা গান্ধী তাঁর পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে 'অহিংসা' এবং 'সত্যাগ্রহ'কে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, হিংসা দিয়ে কখনো স্থায়ী শান্তি আনা যায় না। শত্রু বা অন্যায়কারীর বিরুদ্ধেও তিনি অস্ত্রের বদলে অহিংস অসহযোগ ও ভালোবাসার মাধ্যমে হৃদয়ের পরিবর্তন ঘটানোর নীতি অনুসরণ করতেন।

    উদ্দীপকের জামান সাহেবও কুসংস্কার, অশিক্ষা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও তাঁর প্রতিবাদের ধরন ভিন্ন। তিনি কোনো ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার সমর্থন করেন না এবং বিরোধ মীমাংসায় অহিংস পদ্ধতি বেছে নেন। গান্ধীর অহিংস ও সত্যাগ্রহ নীতির মূল সুরের সাথে জামান সাহেবের এই কর্মপদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাত্মা গান্ধীর সমাজসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও অহিংস কর্মপদ্ধতি তাঁকে একপর্যায়ে সমাজসেবী থেকে একজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিণত করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।

    গান্ধীজী প্রথম জীবনে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। সেখানে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজসেবা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন যে, কেবল সেবামূলক কাজের মাধ্যমে কাঠামোগত শোষণ ও পরাধীনতা দূর করা সম্ভব নয়; এর জন্য বৃহৎ রাজনৈতিক রূপান্তর প্রয়োজন।

    ভারতে ফিরে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে মুক্তির জন্য রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে প্রবেশ করেন। তাঁর অহিংস সত্যাগ্রহ, অসহযোগ আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো পদক্ষেপগুলো কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেছিল। ফলে তিনি কেবল একজন সমাজ সংস্কারক বা সেবকে সীমাবদ্ধ না থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান কর্ণধার এবং সমগ্র ভারতের স্বাধীনতার দিকনির্দেশক শীর্ষ রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত হন। সুতরাং, তাঁর অহিংস কর্মপদ্ধতিই সমাজসেবার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁকে বিশ্ববরেণ্য এক রাজনীতিবিদে পরিণত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন