ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব রাশেদ মিয়া আলমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান। প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য তিনি ছদ্মবেশে গ্রাম। ভ্রমণ করতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও প্রতি রাতে একশত রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। জনসাধারণের উন্নতি এবং স্বার্থ সংরক্ষণে তার জেলার কোনো চেয়ারম্যানই তার মতো যত্নবান ছিলেন না।
- ক)(1)
আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাসকে কেন আস-সাফফাহ বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাশেদ মিয়ার সাথে কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত চারিত্রিক গুণাবলির কারণেই কি উক্ত খলিফাকে ইতিহাসে বিখ্যাত বলা হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আস-সাফফাহ' শব্দের অর্থ রক্তপিপাসু বা রক্তপাতকারী। আব্বাসীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে ও শাসন সুসংহত করতে আবুল আব্বাস উমাইয়া বংশের লোকদের ওপর নির্বিচারে চরম নৃশংস গণহত্যা চালান। এমনকি তিনি জীবিতদের হত্যার পাশাপাশি মৃত উমাইয়া খলিফাদের কবর পর্যন্ত খনন করে তাদের কঙ্কাল পুড়িয়ে ফেলেন। উমাইয়াদের বিরুদ্ধে এ রূপ নির্দয় রক্তপাত ও প্রতিশোধমূলক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনার কারণেই তাকে 'আস-সাফফাহ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রাশেদ মিয়ার সাথে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদের সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা হারুন-অর-রশিদ ছিলেন প্রজাদরদি ও ধর্মপরায়ণ এক মহান শাসক। তিনি প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা ও তাদের অভাব-অভিযোগ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার জন্য রাতের আঁধারে ছদ্মবেশে বাগদাদের অলিগলি ও গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন। এছাড়াও তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন; তিনি প্রতিদিন ফরজ নামাজের পাশাপাশি নিয়মিত একশত রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন।
উদ্দীপকের রাশেদ মিয়াও প্রজাদের অবস্থা জানতে ছদ্মবেশে গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং প্রতি রাতে একশত রাকাত নফল নামাজ আদায়সহ প্রজাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকেন। এই চারিত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি ঐতিহাসিক খলিফা হারুন-অর-রশিদের প্রতিচ্ছবি বহন করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকে উল্লিখিত চারিত্রিক গুণাবলির কারণেই কেবল খলিফা হারুন-অর-রশিদ ইতিহাসে বিখ্যাত নন; বরং তার রাজ্যসীমা বিস্তার, সুদক্ষ প্রশাসন এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতাই তাকে বিশ্ব ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
খলিফা হারুন-অর-রশিদের ধর্মপরায়ণতা ও ছদ্মবেশে প্রজাদের তদারকি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে তার শাসনামলকে আব্বাসীয় খেলাফতের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয় বহুমুখী অবদানের জন্য। তিনি বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করে সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান করেন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শার্লেমেনের মতো পরাক্রমশালী সম্রাটের সাথে কূটনৈতিক মৈত্রী স্থাপন করেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের একজন অসামান্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার রাজদরবার পণ্ডিত, কবি ও বিজ্ঞানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। তিনি 'বায়তুল হিকমাহ' প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপনসহ শিক্ষা বিস্তার, গ্রন্থাগার ও হাসপাতাল নির্মাণ এবং শিল্প-সাহিত্যের নজিরবিহীন বিকাশ ঘটান। 'আরব্য রজনী' বা আলিফ লায়লার অমর কাহিনীর মাধ্যমেও তিনি বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত।
সুতরাং, ব্যক্তিগত সততা ও ধর্মপরায়ণতা ছাড়াও সুশাসন, প্রশাসনিক সংস্কার, সামরিক সাফল্য এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি সাধনের জন্যই খলিফা হারুন-অর-রশিদ বিশ্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও