ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন ও জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী আবদেল সালাম আল মাজলির মধ্যে ১৯৯৪ সালে ২৬ অক্টোবর এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তিতে উভয় দেশ পরবর্তীতে কোনো সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না- এ শর্তে একমত হয়। আর এ চুক্তি-দ্বারা উভয় দেশের জনসাধারণের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশের উপর কোনো আঘাত আসবে না বা এক দেশ দ্বারা অন্য দেশের কোনো ক্ষতি হবে না বলে একমত হয়। তাছাড়া এ চুক্তি দ্বারা এক দেশ অন্য দেশকে আক্রমণের ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকবে বলে ঐকমত্য পোষণ করে। তবে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেলের এক নিউজ বিশ্লেষণে বলা হয় যে, এ চুক্তি ছিল জর্ডানের পরোক্ষ বিজয়।

  1. ক)

    কত সালে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স) পরিখা খনন করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তির সাথে মহানবি (স)-এর গৃহীত কোন সন্ধি বা চুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সন্ধিকে পবিত্র কুরআনে মহাবিজয় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে কেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে (৩ হিজরি) উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মদিনা নগরীকে সম্মিলিত শত্রু বাহিনীর প্রবল আক্রমণ থেকে কার্যকরভাবে রক্ষা করার সামরিক কৌশল হিসেবে মহানবি (স) খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খনন করেছিলেন।

    পঞ্চম হিজরিতে (৬২৭ খ্রি.) কুরাইশ, অন্যান্য আরব গোত্র ও ইহুদিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় দশ হাজার সেনার সম্মিলিত বাহিনী মদিনা আক্রমণ করে। শত্রুর এই বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি সরাসরি উন্মুক্ত যুদ্ধ করা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই পারস্যের বিশিষ্ট সাহাবি সালমান ফারসি (রা)-এর পরামর্শ অনুযায়ী মদিনার অরক্ষিত উত্তর সীমান্তে পরিখা বা খাল খনন করা হয়। এই পরিখার কারণে শত্রুসেনারা মদিনায় প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে মুসলিমরা যুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ইসরাইল-জর্ডান শান্তি চুক্তির সাথে মহানবি (স)-এর ঐতিহাসিক 'হুদায়বিয়ার সন্ধি'র (৬২৮ খ্রি.) সাদৃশ্য রয়েছে।

    ৬ হিজরিতে (৬২৮ খ্রি.) মহানবি (স) ১,৪০০ সাহাবিকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে রওনা হন। কিন্তু মক্কার কুরাইশরা হুদায়বিয়া নামক স্থানে মুসলিমদের গতিরোধ করে। রক্তপাত এড়াতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহানবি (স) কুরাইশদের সাথে দশ বছরের জন্য একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন, যা হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে পরিচিত। এই সন্ধির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আগামী দশ বছর উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো যুদ্ধ বা সংঘর্ষ ঘটবে না এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ নিরাপত্তা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ইসরাইল ও জর্ডানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতেও দেখা যায় যে, উভয় দেশ সংঘর্ষে লিপ্ত না হওয়া, জনসাধারণের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা এবং একে অন্যকে আক্রমণ বা আক্রমণের ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। উপরন্তু, আল জাজিরার বিশ্লেষণে যেমন একে জর্ডানের পরোক্ষ বিজয় বলা হয়েছে, তেমনি আপাতদৃষ্টিতে মুসলিমদের জন্য অবমাননাকর মনে হলেও হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের ভিত্তি। অতএব, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যুদ্ধবিরতি এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক থেকে উদ্দীপকের চুক্তিটি হুদায়বিয়ার সন্ধির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হুদায়বিয়ার সন্ধি বাহ্যিকভাবে মুসলিমদের জন্য শর্তগত দিক থেকে অসম ও নতিস্বীকারমূলক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলাম ও মুসলমানদের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিজয়ের পথ উন্মোচন করেছিল; তাই পবিত্র কুরআনে একে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'মহাবিজয়' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতহে ইরশাদ করেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।" হুদায়বিয়ার সন্ধিকে মহাবিজয় বলার কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. রাজনৈতিক স্বীকৃতি: এই চুক্তির মাধ্যমে কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মদিনা ইসলামী রাষ্ট্র ও মহানবি (স)-কে একটি সমান মর্যাদাসম্পন্ন রাজনৈতিক পক্ষ বা স্বাধীন শক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
    ২. শান্তির পরিবেশ ও ইসলামের প্রচার: দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকার শর্তের কারণে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসে। ফলে সাহাবিগণ অবাধে মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরার সুযোগ পান। ফলস্বরূপ পরবর্তী দুই বছরে যে পরিমাণ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা নবুয়তের বিগত উনিশ বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। খালিদ বিন ওয়ালিদ ও আমর ইবনুল আসের মতো শ্রেষ্ঠ সমরনায়কগণ এ সময়েই ইসলাম গ্রহণ করেন।
    ৩. মক্কা বিজয়ের ভিত্তি: এই চুক্তির ফলে কুরাইশদের সাথে অন্যান্য মিত্র গোত্রগুলোর একতা নষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কুরাইশরা চুক্তি ভঙ্গ করলে মুসলিমরা বিনা রক্তপাতে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হন।

    সুতরাং, আপাতদৃষ্টিতে চুক্তির শর্তগুলো মুসলমানদের প্রতিকূলে মনে হলেও এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল ছিল ইসলামের প্রসার ও বিজয়ের অনন্য চাবিকাঠি। তাই হুদায়বিয়ার সন্ধিকে পবিত্র কুরআনে 'মহাবিজয়' আখ্যায়িত করা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন