সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

লক্ষ্মীপুর গ্রামের বেশিরভাগ জনগণ অসচেতন, অসংগঠিত ও দরিদ্র। গ্রামের একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক আসির গ্রামের কয়েকজন যুবককে একত্রিত করে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং সদস্যদের চাঁদা, অনুদান সরকারি আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য নিয়ে সমবায় পদ্ধতিতে চাষাবাদ, হাঁস, মুরগি পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ, শিক্ষা কার্যক্রম প্রভৃতি কর্মসূচি চালু করেন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত ও স্বাবলম্বী করতে প্রচেষ্টা চালান।

  1. ক)

    দল সমাজকর্মের উপাদান কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    সমষ্টি সংগঠন কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আসির কোন সমাজকর্মী পদ্ধতির জ্ঞান প্রয়োগ করে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে আসিরের অনুসৃত পদ্ধতি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়? আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দল সমাজকর্মের উপাদান ৫টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমষ্টি সংগঠন (Community Organization) হলো সমষ্টি সমাজকর্মের একটি শাখা বা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বা জনসমষ্টির বিদ্যমান সমস্যা ও চাহিদাগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সমষ্টির সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আসির সমাজকর্মের 'সমষ্টি উন্নয়ন' (Community Development) পদ্ধতির জ্ঞান প্রয়োগ করে লক্ষ্মীপুর গ্রামের উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

    সমষ্টি উন্নয়ন হলো অনুন্নত বা উন্নয়নশীল গ্রামীণ ও শহরের জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সরকারি সহযোগিতার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামের জনগণ অসচেতন ও দরিদ্র। আসির গ্রামীণ যুবকদের একত্রিত করে সমবায় সমিতি গড়ে তোলেন এবং স্থানীয় চাঁদা ও অনুদানের পাশাপাশি সরকারি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে চাষাবাদ, হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার মতো বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেন, যা সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে আসিরের অনুসৃত 'সমষ্টি উন্নয়ন' পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়।

    বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরক্ষরতা ও অসচেতনতা প্রধান সমস্যা। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি নিম্নোক্তভাবে প্রয়োগ করে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব:
    ১. স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার: গ্রামীণ মানুষের নিজস্ব সঞ্চয়, জমি ও শ্রম একত্র করে সমবায়ের ভিত্তিতে কৃষি ও কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।
    ২. স্বাবলম্বিতা ও সচেতনতা সৃষ্টি: গ্রামীণ মানুষকে তাদের নিজস্ব সমস্যা সমাধানে সচেতন ও সংগঠিত করা যায়, যা পরনির্ভরশীলতা হ্রাস করে।
    ৩. সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার সংযোগ: গ্রামীণ উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা সহজলভ্য করা যায়।
    ৪. আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড ও প্রশিক্ষণ: হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ, ডেইরি ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকার যুবসমাজ ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়।

    সুতরাং, সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির নীতি অনুযায়ী স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনজীবনের সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন