ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ফয়সাল শীতের ছুটিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেড়াতে গেল। সেখানে সে বিভিন্ন কৃষিদ্রব্য, উৎপাদন পদ্ধতি এবং স্থানীয় লোকের কষ্টসহিষ্ণুতা ও তাদের আতিথেয়তা দেখে বিস্মিত হয়। পাহাড়ি এলাকার চাষাবাদ পদ্ধতির সাথে তার নিজ এলাকা বরিশাল অঞ্চলের অনেক। অমিল খুঁজে পায়। সে আরও লক্ষ করলো মানুষের আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবারসহ সবকিছুই যেন এলাকাভিত্তিক আলাদা-আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- ক)(1)
জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
জাজিরাতুল আরব বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত অঞ্চলের সাথে আরবের ভূ-প্রকৃতির যে অঞ্চলের মিল আছে তার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত অবস্থার ন্যায় আরবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও সে দেশের পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জাহেলিয়া' শব্দের অর্থ অজ্ঞতা, অন্ধকার, বর্বরতা বা কুসংস্কারাচ্ছন্নতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জাজিরাতুল আরব' একটি আরবি শব্দসমষ্টি, যার অর্থ 'আরব উপদ্বীপ'। আরব ভূখণ্ডের তিন দিকে পানি— পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর (বা আরব সাগর) এবং একদিকে স্থলভাগ (উত্তরে সিরিয়া মরুভূমি) থাকায় প্রাচীন ভূগোলবিদ ও আরবরা একে দ্বীপ বা উপদ্বীপ হিসেবে 'জাজিরাতুল আরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের মতো পাহাড়িয়া ও কষ্টসহিষ্ণু পরিবেশের সাথে আরব ভূ-প্রকৃতির পাহাড়ি ও উর্বর অঞ্চল, বিশেষ করে হিজাজ ও ইয়েমেন অঞ্চলের মিল রয়েছে। আরবের ভূ-প্রকৃতিকে সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: মরু অঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চল এবং উর্বর উপকূলীয় অঞ্চল। উদ্দীপকে চট্টগ্রামের পাহাড়ি ভূ-প্রকৃতি, স্থানীয় উৎপাদন পদ্ধতি এবং সেখানকার অধিবাসীদের কষ্টসহিষ্ণু জীবনযাত্রার কথা বলা হয়েছে। প্রাচীন আরবের হিজাজ অঞ্চলটি ছিল পর্বতময় ও অনুর্বর, যেখানে জীবনধারণ ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে ইয়েমেন ছিল পাহাড়ি কিন্তু বৃষ্টিবহুল ও উর্বর, যাকে 'সুখী আরব' (Arabia Felix) বলা হতো। চট্টগ্রামের কষ্টসহিষ্ণু মানুষের কৃষি ও জীবনসংগ্রামের সাথে হিজাজ ও ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার স্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির মতোই আরবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাদের ভৌগোলিক পরিবেশ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল— উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিকভাবে সত্য।
ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের স্বভাব, সংস্কৃতি ও আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাচীন আরবের বিশাল মরুভূমি, শুষ্ক জলবায়ু এবং প্রতিকূল প্রকৃতির কারণে বেদুইনদের জীবন ছিল যাযাবর ও অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু। রুক্ষ মরুভূমির সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে গিয়ে আরবরা সাহসী, নির্ভীক, কষ্টসহিষ্ণু ও স্বাধীনচেতা হয়ে ওঠে। আবার প্রতিকূল পরিবেশে একে অপরকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি ও আতিথেয়তার মতো মহৎ গুণাবলি গড়ে ওঠে। মরুর চরম খাদ্যসংকট সত্ত্বেও কোনো অতিথি এলে তারা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে মেহমানদারি করত। একই সাথে মরুভূমির পানির উৎস ও চারণভূমি দখলের লড়াই থেকেই তাদের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা ও যুদ্ধপ্রিয়তার মতো নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যও জন্ম নেয়।
সুতরাং উদ্দীপকে যেমন পরিবেশভেদে আচার-আচরণ ও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা দেখা যায়, তেমনি আরবের রুক্ষ ও বন্ধুর প্রাকৃতিক পরিবেশই আরবদের সাহস, আতিথেয়তা, স্বাধীনতা ও গোত্রপ্রেমের মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্ম দিয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও