সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

শিশুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার সচেষ্ট। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে যা শিশুদের লালন-পালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও তাদের সাথে ব্যবহার এবং শিশু অপরাধীদের বিচার ও শান্তি সম্পর্কিত বিষয়ের সাথে জড়িত।

  1. ক)

    হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন করা হয় কত সালে?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন আইন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে? এর স্বরূপ ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    'এ আইন শিশুদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ দলিল'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ২০১২ সালে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রণয়ন করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক আইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, দুর্বল ও অসহায় জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদের সামাজিক শোষণ ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা প্রদান করা। সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণ, নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এ আইনের মূল লক্ষ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৭৪ সালের 'শিশু আইন' (The Children Act, 1974) সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

    স্বরূপ: বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা এবং সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭৪ সালে এ আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মূল স্বরূপ হলো শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিতকরণ, অভিভাবকহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের আশ্রয় ও তত্ত্বাবধান প্রদান এবং কোনো শিশু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ অপরাধীদের মতো নয়, বরং সংশোধনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলাদা শিশু আদালতে তাদের বিচার পরিচালনা করা। এতে শিশু অপরাধীদের প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে না রেখে কিশোর সংশোধনী প্রতিষ্ঠান বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে রেখে সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'এ আইন শিশুদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ দলিল'- উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    ১৯৭৪ সালের শিশু আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে শিশুদের আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি হয়। এ আইনের আওতায় শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পৃথক শিশু আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়, যাতে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। পাশাপাশি ভবঘুরে, অনাথ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য রিমান্ড হোম ও কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়।

    তাছাড়া, এ আইনে শিশুদের শোষণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করার কঠোর নিয়ম জারি করা হয়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত না করে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ এবং সুস্থ পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে ২০১৩ সালে যুগোপযোগী নতুন শিশু আইন প্রণীত হয়েছে, তবুও ১৯৭৪ সালের আইনটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশু সুরক্ষায় প্রথম ও যুগান্তকারী একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। তাই সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন