ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মুদ্ধাব্বির চৌধুরী একটি চা উৎপাদনকারী কোম্পানির নীতি নির্ধারণী এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজের সাথে জড়িত। কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে ৫ লক্ষ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কর্মীরা রাতদিন পরিশ্রম করে ভালো ফলনের পরও ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। জনাব চৌধুরী ও পরিচালনা পর্ষদ তদন্ত করেও বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা শ্রমিকদের কোনো গাফিলতির প্রমাণ পায়নি।
- ক)(1)
আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক কে?
- খ)(2)
"ব্যবস্থাপনা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া"--ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব মুছাব্বির চৌধুরী ব্যবস্থাপনার কোন স্তরের কর্মকর্তা? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় মধ্যম ও নিম্ন স্তরে নয়, বরং উচ্চ স্তরের কাজে ভুল ছিল-যুক্তিসঙ্গত মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন হেনরি ফেওল (Henri Fayol)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবস্থাপনা মানুষের দ্বারা, মানুষের জন্য এবং সমাজের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয় বিধায় একে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সমাজবদ্ধ মানুষের দলগত প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করে পরিচালিত হয়। এটি কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সমাজের বিভিন্ন পক্ষের (যেমন- ক্রেতা, শ্রমিক, সরবরাহকারী ও সরকার) স্বার্থ রক্ষা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সমাজের উপাদানগুলোকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম আবর্তিত হয় বলেই ব্যবস্থাপনা একটি সামাজিক প্রক্রিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব মুছাব্বির চৌধুরী ব্যবস্থাপনার 'উচ্চ স্তর'-এর (Top Level Management) কর্মকর্তা।
একটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ, সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি ব্যবস্থাপনার উচ্চ স্তরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা এই স্তরে অবস্থান করেন।
উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, জনাব মুছাব্বির চৌধুরী চা উৎপাদনকারী কোম্পানির নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজের সাথে জড়িত। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সাথে যুক্ত হয়ে তদন্ত পরিচালনার মতো শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তমূলক কাজে অংশ নিয়েছেন। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, নীতি ও পরিকল্পনা তৈরির মূল দায়িত্ব উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপকদের ওপর ন্যস্ত থাকে, তাই জনাব মুছাব্বির চৌধুরী নিঃসন্দেহে ব্যবস্থাপনার উচ্চ স্তরের কর্মকর্তা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় মধ্যম ও নিম্ন স্তরে নয়, বরং উচ্চ স্তরের কাজে ভুল ছিল—এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত ও যথার্থ।
একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও লক্ষ্য নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপনার ওপর। লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি, সম্পদের সীমাবদ্ধতা, পরিবেশগত উপাদান এবং কর্মীদের স্বাভাবিক সক্ষমতা বিবেচনা করা অপরিহার্য। লক্ষ্য যদি অবাস্তব ও অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়, তবে শতভাগ আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা অর্জন করা সম্ভব হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ৫ লক্ষ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছিল। এর ফলেও ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কেজি উৎপাদিত হয়, অর্থাৎ ৫০ হাজার কেজির ঘাটতি থাকে। পরবর্তীতে জনাব চৌধুরী ও পরিচালনা পর্ষদের তদন্তে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা বা শ্রমিকদের কোনো অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, লক্ষ্য বাস্তবায়নে কোনো ত্রুটি ছিল না; বরং উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপকরাই বাস্তবতা সঠিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ না করে অবাস্তব ও মাত্রাতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। ফলস্বরূপ, পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণের স্তরেই ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। অতএব, ব্যর্থতার দায় মধ্যম বা নিম্ন স্তরের নয়, বরং উচ্চ স্তরেরই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও