ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
আব্রাহাম লিংকন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের একজন। আমেরিকা যখন দাস-ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক গৃহযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি দাস মুক্তির শপথ নিয়ে শত প্রতিকূলতার মধ্যে আমেরিকাকে সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র বলতে সাধারণের ইচ্ছা, মানবাধিকার ও জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধন বলে মনে করতেন। মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ সামনে রেখে তিনি আমেরিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- ক)(1)
খন্দকের যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল?
- খ)(2)
ওমরাতুল কাযা বা মুলতবি হজ কী?
- গ)(3)
মহানবি (স)-এর কোন সংস্কারের সাথে আব্রাহাম লিংকনের সংস্কারের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগুলো মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খন্দকের যুদ্ধ ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে (৫ম হিজরি) সংঘটিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত অনুযায়ী মুসলমানরা সে বছর উমরা পালন না করে মদিনায় ফিরে যান এবং পরবর্তী বছর (৬২৯ খ্রি./৭ম হিজরি) মক্কায় এসে তিন দিন অবস্থান করে যে উমরা আদায় করেছিলেন, তাকে 'ওমরাতুল কাযা' বা মুলতবি উমরা/হজ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আব্রাহাম লিংকনের দাসপ্রথা বিলোপ সংস্কারের সাথে মহানবি (স)-এর দাস-দাসী মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংস্কারের গভীর মিল রয়েছে।
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে আরবে ক্রীতদাসদের পশুর মতো কেনাবেচা করা হতো এবং তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। মহানবি (স) দাসপ্রথার কঠোর বিরোধী ছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন যে সব মানুষ এক আদমের সন্তান এবং দাস-দাসীদেরও সমঅধিকার রয়েছে। তিনি নিজে ক্রীতদাস যায়িদ বিন হারিসাহকে মুক্ত করে নিজের দত্তক পুত্র করেছিলেন এবং বিলাল (রা)-কে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করে দাসদের উচ্চ সামাজিক মর্যাদায় ভূষিত করেছিলেন। উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকন যেভাবে দাস মুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন, মহানবি (স)-ও তেমনি মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন পাপের কাফফারা হিসেবে দাস মুক্ত করার বিধান প্রবর্তন করেছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের দর্শনের উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য এবং কিছুটা বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
সাদৃশ্য:
১. দাসত্ব বিলোপ ও মানবকল্যাণ: আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার দাস-ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মহানবি (স) বিদায় হজের ভাষণে ও মদিনা সনদের মাধ্যমে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে দাস-দাসীদের মুক্তি ও নিরাপত্তা দেন।
২. জনকল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক ভাবধারা: লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা (জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণে) এবং মহানবি (স)-এর শাসনপদ্ধতি উভয়ই ছিল শৌর্যবীর্যের বদলে জনগণের সার্বিক কল্যাণ, ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর প্রতিষ্ঠিত।বৈসাদৃশ্য:
১. মূল ভিত্তি: লিংকনের দর্শন ছিল ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক গণতন্ত্রভিত্তিক। পক্ষান্তরে, মহানবি (স)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল খোদায়ী ওহি, তৌহিদ ও সার্বজনীন ইসলামী শরিয়ত।
২. পরিসর: লিংকনের কার্যক্রম মূলত আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংকট ও দাসপ্রথা দূরীকরণের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু মহানবি (স)-এর চিন্তা ছিল সামগ্রিক মানবজাতির আধ্যাত্মিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রের একটি সার্বজনীন ও স্থায়ী জীবনব্যবস্থা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও