ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রশাসনের একজন অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কমকর্তা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেখলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে আমলা শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল তারাই এখন প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক অফিসিয়াল কার্যাদি পরিচালনা করছে। এমতাবস্থায় মেয়র প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সিন্ডিকেটদের কঠোরভাবে দমন-বদলি, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ কিছু অত্যাবশ্যকীয় বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। ফলে সিটি কর্পোরেশনে সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সুনাম বৃদ্ধি পায়।

  1. ক)

    সুলতান মাহমুদের পিতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    কুতুব মিনার নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আমলা সিন্ডিকেটদের সাথে বন্দেগান-ই- চেছেলেগানের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত মেয়রের গৃহীত উদ্যোগের সাথে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত পদক্ষেপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুলতান মাহমুদের পিতার নাম সবুক্তগীন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার নামকরণের কারণ নিয়ে দুটি প্রধান অভিমত রয়েছে। প্রথমত, কুতুবউদ্দিন আইবেক এই মিনারের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন বলে তাঁর নামানুসারে এর নাম 'কুতুব মিনার' রাখা হয়। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে, তৎকালীন প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুলতান ইলতুতমিশ এই সুউচ্চ মিনারটির নামকরণ করেন 'কুতুব মিনার'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আমলা সিন্ডিকেটের সাথে দিল্লি সালতানাতের 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা 'চল্লিশ চক্রের' আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের সাদৃশ্য রয়েছে।

    সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ তাঁর সাম্রাজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিশ্বস্ত চল্লিশজন তুর্কি ক্রীতদাস বা আমির-ওমরাহদের নিয়ে 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' গঠন করেছিলেন। কিন্তু ইলতুতমিশের মৃত্যুর পর এই আমলারা মাত্রাতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তারা রাজসিংহাসনের ভাগ্যনিয়ন্তা হয়ে দাঁড়ায় এবং একের পর এক দুর্বল সুলতানকে ক্ষমতার পুতুলে পরিণত করে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি আমলা শ্রেণিই ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সিন্ডিকেট গঠন করে উচ্চপদস্থদের অবমাননাসহ প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই অবস্থাটি দিল্লির চল্লিশ চক্রের অরাজক আচরণেরই প্রতিচ্ছবি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে মেয়রের গৃহীত উদ্যোগ এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত পদক্ষেপ নীতি ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে অভিন্ন।

    দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ক্ষমতা গ্রহণের পর উপলব্ধি করেন যে, প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সবচেয়ে শক্তিশালী বিশৃঙ্খলাকারী গোষ্ঠী 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' বা চল্লিশ চক্রকে দমন করা অত্যাবশ্যক। তিনি এই উদ্দেশ্য সাধনে রক্তপাত ও লৌহনীতি (Blood and Iron Policy) গ্রহণ করেন। বিদ্রোহী ও উদ্ধত আমিরদের কঠোরভাবে দমন, হত্যা, নির্বাসন ও বদলি করেন। একই সাথে তিনি নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা এবং একটি দক্ষ গোয়েন্দা বাহিনী (বারিদ) মোতায়েন করে অভিজাতদের প্রতিটি গতিবিধি নজরদারিতে রাখেন, যা সুলতানের ক্ষমতা ও সালতানাতের সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

    উদ্দীপকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে কঠোর হাতে দমন ও বদলি করেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন এবং নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। মেয়রের এই পদক্ষেপ বলবনের কঠোর নীতি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার সাথে তুলনীয়। সুতরাং, উভয়ের উদ্দেশ্যই ছিল কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন