ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
রমজান তার বাবার কাছে শুনতে পায় একটি দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এদেশের যুবকদের তাজা রক্ত দেওয়ার কিছু ইতিহাস। বাবা তাকে বলে রক্তের বিনিময়ে তাদের সেভদাবি বাস্তবে রূপ নেয় এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলেও দাবিটি স্বীকৃতি লাভ করায় সারা বিশ্বের দিনটি মর্যাদার সাথে পালিত হচ্ছে।
- ক)(1)
বাংলা একাডেমির পূর্ব নাম কি?
- খ)(2)
ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কি ছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তক এর কোন আন্দোলনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলন - পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলা একাডেমির পূর্ব নাম ছিল বর্ধমান হাউস (বা বর্ধমান ভবন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রারম্ভিক পর্বে গঠিত ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর অন্যতম সংগঠক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে তিনি গ্রেফতার হন। পরবর্তীতে জেলে থেকেও তিনি আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিতে দিকনির্দেশনা দেন এবং ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতিতে বন্দি অবস্থাতেই আমরণ অনশন পালন করে আন্দোলনের গতিকে বেগবান করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র-যুবসমাজ রাজপথে নেমে আসে এবং সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শহীদ হন। রক্তের বিনিময়ে দাবি আদায় হয় এবং বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। উদ্দীপকেও একটি দাবির জন্য যুবকদের রক্ত দেওয়া এবং দাবি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
তাছাড়া, জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিনটি মর্যাদার সাথে পালিত হয়। উদ্দীপকের বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ও তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম সফল ও সংগঠিত বহিঃপ্রকাশ, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিল—এ বক্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। তারা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র করে। বাঙালি জাতি এই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
ভাষার প্রশ্নে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের মোহভঙ্গ ঘটে এবং ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিবর্ষণে ছাত্র-জনতার আত্মাহুতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করায় বাঙালির মধ্যে নিজেদের স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের সাহস তৈরি হয়।
এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপই ক্রমান্বয়ে বাঙালিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তুত করে।
সুতরাং, পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনই ছিল বাঙালি জাতির প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, যা জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও