ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

ক্রান্তীয় অঞ্চলে মৌসুমি জলবায়ু প্রভাবিত দেশগুলোতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের পূর্বে এক ধরনের বৃষ্টিপাত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অন্য ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।

  1. ক)

    পানিচক্র কী?

    (1)
  2. খ)

    বায়ুপ্রবাহের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বায়ু আগমনের পূর্বে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত ব্য়য়ুপ্রবাহ আগমনের পূর্বে ও পরের বৃষ্টিপাত ধরনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রক্রিয়ায় পানি বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও অশ্মমণ্ডলের মধ্যে ক্রমাগত চক্রাকারে আবর্তিত হয়, তাকে পানিচক্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়ুপ্রবাহের প্রধান কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্য এবং পৃথিবীর আবর্তন গতি। সৌর বিকিরণের তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থান অসমভাবে উত্তপ্ত হয়। কোনো স্থানে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তখন চারপাশের উচ্চচাপযুক্ত শীতল ও ভারী বাতাস নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া পৃথিবীর ঘূর্ণনজনিত কোরিওলিস বলের প্রভাবেও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আগমনের পূর্বে 'পরিচলন বৃষ্টিপাত' (Convectional Rain) সংঘটিত হয়।

    গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা প্রখর সূর্যকিরণে ভূ-পৃষ্ঠ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন বাতাস দ্রুত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সোজা উপরের দিকে উঠতে থাকে। উপরে উঠে বাতাস শীতল হয়ে তার জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয় এবং কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি করে। এর ফলে অপরাহ্ণে বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ ক্ষণস্থায়ী কিন্তু প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। ক্রান্তীয় মৌসুমি অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পূর্বে মার্চ-মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে এই পরিচলন বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বায়ুপ্রবাহ আগমনের পূর্বে সংঘটিত হয় 'পরিচলন বৃষ্টিপাত' এবং বায়ুপ্রবাহের (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু) ফলে সংঘটিত হয় 'শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত'। নিচে এ দুটি বৃষ্টিপাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. উৎপত্তির কারণ: পরিচলন বৃষ্টিপাত প্রধানত স্থানীয় তাপীয় প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়; প্রখর তাপে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বাতাস উষ্ণ ও হালকা হয়ে সোজা উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে এ বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে যখন জলীয় বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহপথে কোনো উচ্চ পর্বত বা পাহাড়ে বাধা পেয়ে ঢাল বেয়ে উপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়।

    ২. মেঘের ধরন: পরিচলন বৃষ্টিতে দ্রুত উলম্বভাবে পুঞ্জীভূত 'কিউমুলোনিম্বাস' মেঘের সৃষ্টি হয়। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিতে সাধারণত বিস্তৃত স্তরবিশিষ্ট মেঘের সৃষ্টি হয়।

    ৩. স্থায়িত্ব ও প্রকৃতি: পরিচলন বৃষ্টিপাত সাধারণত ক্ষণস্থায়ী, মুষলধারে এবং এর সাথে তীব্র বজ্রপাত ও ঝড় (যেমন কালবৈশাখী) থাকে। অপরপক্ষে, মৌসুমি বায়ুপ্রবাহজনিত শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত একটানা কয়েক দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী আকারে ঝরতে পারে।

    ৪. বিস্তৃতি ও প্রভাব: পরিচলন বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে স্থানীয় ও সীমিত অঞ্চলে ঘটে। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত সমগ্র উপমহাদেশ বা বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে সংঘটিত হয় এবং এর প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টি হয় ও অনুবাদ ঢালে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, প্রক্রিয়া, ব্যাপ্তি এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এই দুই বৃষ্টিপাতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন