পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
ছক-১ | ছক-২
বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। | বাহ্যিক ও মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট। | অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট।
সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃক সমর্থিত। | বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- ক)(1)
নৈতিকতা কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থনৈতিক মূল্যবোধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ছক-১ ও ছক-২ এর মধ্যে বিরাজমান বৈসাদৃশ্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ছক-১ ও ছক-২-এর ভূমিকা তুমি কীভাবে মূল্যায়ন করবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত বোধের মানসিক অনুভূতিকে নৈতিকতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক মূল্যবোধ বলতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দায়িত্ববোধের চর্চাকে বোঝায়।
এটি ব্যক্তিকে ব্যবসায়-বাণিজ্যে দুর্নীতি, মজুতদারি বা প্রতারণা থেকে বিরত রাখে এবং শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও ন্যায্য মজুরি প্রদানে উৎসাহিত করে। সমাজে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অর্থনৈতিক মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক-১ নির্দেশ করে ‘আইন’ এবং ছক-২ নির্দেশ করে ‘নৈতিকতা’ বা ‘নৈতিক নিয়ম’। এদের মধ্যকার বৈসাদৃশ্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নিয়ন্ত্রণ পরিধি: আইন কেবল মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু মানুষের ভেতরের চিন্তা বা অনুভূতির বিচার করতে পারে না। পক্ষান্তরে, নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক আচরণের পাশাপাশি চিন্তা ও মানসিক অনুভূতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে।
২. স্পষ্টতা: আইন সুস্পষ্ট, লিখিত এবং সুনির্দিষ্ট। অন্যদিকে, নৈতিকতার কোনো লিখিত রূপ নেই, এটি অনির্দিষ্ট ও আপেক্ষিক।
৩. প্রয়োগ ও বাধ্যবাধকতা: আইন সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত ও প্রয়োগযোগ্য। আইন অমান্য করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু নৈতিকতা মানুষের বিবেক ও সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত; এটি ভঙ্গ করলে কোনো আইনি শাস্তি নেই, কেবল বিবেকের দংশন ও সামাজিক তিরস্কারের সম্মুখীন হতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ছক-১ (আইন) এবং ছক-২ (নৈতিকতা) উভয়ের ভূমিকাই পরিপূরক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আইনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার সংরক্ষিত হয়, অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় এনে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র কঠোর আইন দিয়ে অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না মানুষের মধ্যে নৈতিক চেতনা থাকে।
নৈতিকতা মানুষের অন্তরে সততা, মানবপ্রেম ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে। শাসক ও সরকারি কর্মকর্তারা যদি নৈতিক গুণে গুণান্বিত হন, তবে তারা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মানতে এবং অপরের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।
সুতরাং, আইন যেখানে সুশাসনের বাহ্যিক কাঠামো রক্ষা করে, নৈতিকতা সেখানে তার অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। এ কারণে সুশাসন অর্জনে আইন ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও