ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
শরিফ, সাহেদ ও মকবুল তিন বন্ধু। ইসলামের আইন বিষয়ে আলোচনা করছিলো। শরিফ বলল, মহানবি (সা.)-এর যুগের পর যা কিছু উদ্ভব হয়েছে সবই বিদআত। সাহেদ প্রতিবাদ করে বলে সবকিছুই বিদআত নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, কাজকে ভিত্তি করে পরবর্তীতে এমন একটি জ্ঞানের শাখা তৈরি হয়েছে যা ইসলামি শরিয়াহ পালনকে সহজ করেছে। শরিফ বলল, ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফাতে জন্ম নেন এক শিশু। পিতা-মাতা তার নাম রাখেন নুমান। ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও তার আগ্রহ ছিল জান চর্চায়। তার চিন্তাধারা এবং ফিকহের পদ্ধতি ইসলামি আইন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।
- ক)(1)
আল-হায়া' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
মাযহাব বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাহেদ ইসলামের কোন জ্ঞানের শাখাকে বুঝিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শরিফ যে ব্যক্তিত্বের কথা বলেছে ইসলামি শরিয়তের আইন প্রণয়নে তার অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-হায়া' (الحياء) শব্দের অর্থ লজ্জা, বিনয় বা শালীনতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাযহাব (مذهب) শব্দের আভিধানিক অর্থ চলার পথ, মতাদর্শ বা পন্থা। ইসলামি পরিভাষায়, পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিধিবিধান এবং শরিয়তের জটিল মাসআলা-মাসায়েল বোঝার জন্য নির্ভরযোগ্য ও মুজতাহিদ ফকিহদের অনুসৃত গবেষণামূলক পদ্ধতি ও মতবাদকে মাযহাব বলা হয়। মূলত সাধারণ মুসলমানদের শরিয়তের বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা ও সমাধান প্রদানের জন্য মাযহাবের উৎপত্তি হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাহেদ ইসলামের 'ফিকহ' (ইসলামি আইনশাস্ত্র) শাস্ত্রকে বুঝিয়েছে।
ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান এবং শরিয়াহর বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানার ইলমকে 'ফিকহ' বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত এবং সাহাবিদের যুগের পর মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তৃতির সাথে সাথে নতুন নতুন সামাজিক ও ধর্মীয় সমস্যার উদ্ভব হতে থাকে। কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে মুজতাহিদ ফকিহগণ ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে এসব নিত্যনতুন সমস্যার সহজ ও সুনির্দিষ্ট শরিয়তি সমাধান প্রদান করেন।
উদ্দীপকে সাহেদ উল্লেখ করে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা ও কাজকে ভিত্তি করে পরবর্তীতে এমন একটি জ্ঞানের শাখা গড়ে উঠেছে যা ইসলামি শরিয়াহ পালনকে সহজ করেছে। সাহেদের এই বক্তব্য সরাসরি ফিকহ শাস্ত্রের উৎপত্তি ও তাৎপর্যের দিকে ইঙ্গিত করে, যা ইসলামি অনুশাসন পালনে মুসলমানদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শরিফ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা উল্লেখ করেছে, যার আসল নাম নুমান ইবনে সাবিত এবং তিনি ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইসলামি শরিয়তের আইন প্রণয়নে তাঁর অবদান অপরিসীম।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহের জনক বলা হয়। তিনিই সর্বপ্রথম ফিকহ শাস্ত্রকে সুবিন্যস্ত ও বিধিবদ্ধ রূপ দান করেন। তিনি সমকালীন প্রায় চল্লিশ জন বিশেষজ্ঞ আলেম ও ফকিহ সমন্বয়ে একটি স্থায়ী ফিকহ একাডেমি বা আইন বোর্ড গঠন করেছিলেন। এই পরিষদ কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রায় তিরাশি হাজার মতভেদ ও সমস্যার সমাধান লিপিবদ্ধ করে।
তিনি শুধু তৎকালীন বাস্তব সমস্যারই সমাধান করেননি, বরং ভবিষ্যতে ঘটতে পারে এমন সম্ভাব্য সমস্যাগুলোরও ফিকহি সমাধান নির্ণয় করেছিলেন, যা 'তাকদিরি ফিকহ' নামে পরিচিত। তিনি ইসলামি আইন প্রণয়নে কিয়াস ও ইসতিহসানের যৌক্তিক প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'হানাফি মাযহাব' আজ মুসলিম বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অনুসরণ করে থাকে। অতএব, ইসলামি শরিয়তকে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অবদান অবিস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও