ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
মহানবি (স) অন্যায়ের সমর নামে পরিচিত যুদ্ধের একজন শিশু সৈনিক ছিলেন। অহেতুক কারণে পাঁচ বছরকাল স্থায়ী এ যুদ্ধের বিভীষিকা ও তান্ডবলীলা তাকে অস্থির করে তোলে। তাই তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ এবং আরবে শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড কে ছিলেন?
- খ)(2)
জার্মানরা ভার্সাই চুক্তিকে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি বলে অভিহিত করেছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সংঘের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কোন সংগঠনটির মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইউরোপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি সহায়ক হয়েছিল। বলে কি তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড ছিলেন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের যুবরাজ বা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী (Archduke of Austria)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর একতরফাভাবে যে শান্তিচুক্তি চাপিয়ে দিয়েছিল, জার্মানরা তাকে 'চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি' বা 'ডিকটেট' (Diktat) বলে অভিহিত করেছিল। কারণ এই চুক্তির শর্ত নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জার্মানিকে কোনো আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি, কেবল চূড়ান্ত দলিলে স্বাক্ষরের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল। চুক্তির শর্তগুলো ছিল জার্মানির জন্য অত্যন্ত অপমানজনক, প্রতিশোধমূলক ও ধ্বংসাত্মক—যেমন যুদ্ধাপরাধের দায় সম্পূর্ণ জার্মানির ওপর চাপানো, বিশাল অঙ্কের যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ধার্য করা, জার্মানির সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া। তাই জার্মানরা একে অসম্মানজনকভাবে চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি মনে করত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শান্তিসংঘের (হিলফুল ফুজুল) সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আন্তর্জাতিক সংগঠন 'লীগ অব নেশনস' (League of Nations)-এর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অন্যায়ের সমর বা ফিজার যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অহেতুক রক্তপাত দেখে ব্যথিত হয়ে মহানবি (স) শান্তি ফিরিয়ে আনতে 'হিলফুল ফুজুল' নামের একটি শান্তিসংঘ গঠন করেছিলেন। একইভাবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ, রক্তক্ষয় ও মানবিক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করার পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে এমন বিধ্বংসী যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার তাগিদ অনুভব করেন। এই উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফার ভিত্তিতে ১৯২০ সালে আন্তর্জাতিক সংগঠন 'লীগ অব নেশনস' (জাতিসংঘের পূর্বসূরি) গঠিত হয়। উভয় উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই ছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আগ্রাসন রোধ করা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, আমি মনে করি না যে লীগ অব নেশনস ইউরোপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর বা চূড়ান্তভাবে সহায়ক হয়েছিল; বরং সংগঠনটির কাঠামোগত দুর্বলতা ও পরাশক্তিগুলোর স্বার্থপরতার কারণে এটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল।
লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল যৌথ নিরাপত্তার মাধ্যমে আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। সাময়িকভাবে কিছু ছোটখাটো আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে এটি সফল হলেও ইউরোপে স্থায়ী শান্তি রক্ষা করতে পারেনি, যার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. পরাশক্তিগুলোর অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতা: যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে লীগ গঠিত হয়েছিল, সেই আমেরিকা এতে যোগ দেয়নি। ফলে শুরু থেকেই সংস্থাটি দুর্বল ছিল।
২. নিজস্ব সেনাবাহিনীর অভাব: লীগের কোনো নিজস্ব সামরিক বাহিনী বা কার্যকর প্রয়োগকারী সংস্থা ছিল না।
৩. ভার্সাই চুক্তির সাথে সম্পৃক্ততা: লীগ ভার্সাই চুক্তির অংশ হিসেবে গঠিত হওয়ায় জার্মানি ও অন্যান্য পরাজিত দেশ এটিকে বিজয়ী মিত্রশক্তির স্বার্থরক্ষাকারী যন্ত্র হিসেবে দেখত।
৪. তোষণ নীতি ও আগ্রাসন রোধে ব্যর্থতা: ইতালি কর্তৃক আবিসিনিয়া দখল, জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ এবং হিটলারের একের পর এক উগ্র আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লীগ অব নেশনস কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তোষণ নীতির ফলে লীগ অব নেশনস ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়।এরই চূড়ান্ত পরিণতিতে মাত্র দুই দশকের মাথায় ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। অতএব, লীগ অব নেশনস ইউরোপে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও