‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ মিয়ানমারের মধ্যে সমূদ্রসীমা নিয়ে বহুদিন ধরে বিরোধ বিদ্যমান। কিন্তু সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে সমাধান করে একটি স্থায়ী দিকনির্দেশনা প্রদান করে; যা উভয় দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে?

    (1)
  2. খ)

    আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রতিষ্ঠান কি দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছিল? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব হলেন নরওয়ের নাগরিক ট্রিগভে লাই (Trygve Lie)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আটলান্টিক চার্টার হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক আট দফা যৌথ ঘোষণাপত্র। আটলান্টিক মহাসাগরে একটি যুদ্ধজাহাজে গোপনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সংস্থা (পরবর্তীতে জাতিসংঘ) গঠনের ভিত্তি স্থাপন করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'জাতিসংঘ' (United Nations) এবং এর অধীনস্থ আন্তর্জাতিক আদালতের (International Court of Justice বা ITLOS/জাতিসংঘ সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল) ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত রয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে মীমাংসা হয়। বাস্তবের ২০১২ সালে জাতিসংঘের আওতাধীন আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিষয়ক ট্রাইব্যুনাল (ITLOS)-এ ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি ঘটে। অতএব, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও শান্তি রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে জাতিসংঘের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সার্বিকভাবে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করলেও কিছু ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত তুলে ধরা হলো:

    সফলতার দিক:
    ১. শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা বিরোধের মতো অনেক দ্বিপাক্ষিক বিরোধ জাতিসংঘ ও তার অঙ্গসংস্থার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসিত হয়েছে।
    ২. বিশ্বযুদ্ধের অনুপস্থিতি: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো বৈশ্বিক বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি।
    ৩. শান্তি রক্ষা মিশন: বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
    ৪. মানবিক উন্নয়ন: মানবাধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা (UNICEF, WHO, UNHCR) অত্যন্ত সক্রিয়।

    সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতার দিক:
    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে কাশ্মীর সমস্যা, ফিলিস্তিন সংকট, সিরিয়া যুদ্ধ বা রোহিঙ্গা সংকটের মতো বড় বড় ইস্যুতে জাতিসংঘ কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বার্থসংঘাতের কারণে সংস্থাটি অনেক সময় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

    সুতরাং, শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা হ্রাস, ছোট-বড় সংকট নিরসন এবং মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পালনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন