ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শ্রীমান্ডো বন্দরনায়েক আধুনিক বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর দেশ-বিদেশের কিছু অভিজাত। শ্রেণির সমালোচনার মুখোমুখি হন। কিন্তু নিজ মেধা ও কর্মদক্ষতার গুণে তিনি সব বিশৃঙ্খলা দূর করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
সালতানাতের শেষ সুলতান কে ছিলেন?
- খ)(2)
আলাউদ্দিন খলজির মোঙ্গলনীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মহিলা শাসকের সাথে দিল্লি সালতানাতের কোন মহিলা শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত মহিলা শাসকের কৃতিত্ব তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে । বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দিল্লি সালতানাতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মোঙ্গলনীতি ছিল মূলত একটি অত্যন্ত কঠোর, সক্রিয় ও সফল প্রতিরক্ষামূলক নীতি।
দিল্লি সালতানাতকে মোঙ্গলদের বারবার বিধ্বংসী আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি উত্তর-পশ্চিম সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে বিশেষ মনোযোগ দেন। তিনি সীমান্তের পুরনো দুর্গগুলো সংস্কার করেন এবং নতুন নতুন দুর্গ নির্মাণ করে সেখানে সুদক্ষ সেনা ও অস্ত্রাগার স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি একটি সুবিশাল ও সুপ্রশিক্ষিত স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং অত্যন্ত যোগ্য সেনাপতিদের (যেমন জাফর খান, গিয়াসউদ্দিন বলবন-অনুসারী যোদ্ধা ইত্যাদি) সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেন। এই দৃঢ় নীতির ফলে মোঙ্গলদের উপর্যুপরি ছয়টি মারাত্মক আক্রমণ প্রতিহত করে ভারতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধান শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের সাথে দিল্লি সালতানাতের একমাত্র নারী শাসক সুলতানা রাজিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
শ্রীমাভো বন্দরনায়েক ক্ষমতা গ্রহণের পর পুরুষতান্ত্রিক ও অভিজাত শ্রেণির পক্ষ থেকে প্রবল বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু মেধা ও যোগ্যতাবলে তিনি দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। দিল্লি সালতানাতের সুলতান ইলতুৎমিশের কন্যা সুলতানা রাজিয়াও যখন ১২৩৬ সালে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন তৎকালীন রক্ষণশীল তুর্কি আমীর-ওমরাহ এবং অভিজাতরা একজন নারীর অধীনতা সহজে মেনে নিতে পারেননি।
সুলতানা রাজিয়া চরম প্রতিকূলতার মুখেও অসাধারণ মেধা, সাহস ও নেতৃত্বগুণের প্রমাণ দেন। তিনি পর্দা প্রথা ত্যাগ করে রাজপোশাক পরিধান করে দরবারে বসতেন এবং নিজ হাতে যুদ্ধের পরিচালনা করতেন। রাজিয়া বিদ্রোহী আমীরদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র দমন করে সালতানাতে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শ্রীমাভো বন্দরনায়েকের ক্ষমতা গ্রহণ ও অভিজাতদের বিরোধিতা মোকাবিলা করার সাথে সুলতানা রাজিয়ার জীবনের এই দিকগুলোর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দিল্লি সালতানাতের ইতিহাসে সুলতানা রাজিয়ার শাসনকাল ছিল সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর কৃতিত্ব ছিল অত্যন্ত গৌরবময় ও অনন্য।
প্রথমত, তিনি ছিলেন মধ্যযুগীয় ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী শাসক। পিতা সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর অযোগ্য পুত্রদের চেয়ে রাজিয়াকে অধিক যোগ্য বিবেচনা করে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছিলেন। সিংহাসনে বসে রাজিয়া পিতার সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেন।
দ্বিতীয়ত, শাসন পরিচালনায় তিনি অসাধারণ যোগ্যতা প্রদর্শন করেন। রক্ষণশীল অভিজাত শ্রেণি ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের সম্মিলিত বিদ্রোহ তিনি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনীতির মাধ্যমে দমন করেন। তিনি পর্দা প্রথা ত্যাগ করে পুরুষোচিত পোশাক পরিধান করে দরবারে প্রকাশ্য বিচারকাজ পরিচালনা করতেন এবং প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন।
তৃতীয়ত, তিনি একজন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। তাঁর সময়ে সাম্রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রজাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তৎকালীন বিখ্যাত ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন—"তিনি ছিলেন এক মহান শাসক, অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, প্রজাবৎসল, ন্যায়পরায়ণ এবং সকল রাজকীয় গুণাবলীতে ভূষিত।"
পরিশেষে বলা যায়, সমকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও অভিজাতদের সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে তাঁর পতন ঘটলেও ব্যক্তিগত গুণাবলি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার দিক থেকে সুলতানা রাজিয়ার কৃতিত্ব সালতানাতের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও