ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদ ভয়ংকর আকার ধারণ করে। এমনি এক সময়ে একটি দেশে এক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বে, এক ভয়ংকর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ক)(1)
বসনিয়ার রাজধানীর নাম কী?
- খ)(2)
ত্রিশক্তি আঁতাত বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাম্রাজ্যবাদই ছিল উক্ত দ্বন্দ্বের মূল কারণ- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বসনিয়ার রাজধানীর নাম সারায়েভো (Sarajevo)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente) বলতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপের তিনটি প্রধান পরাশক্তি—ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যকার সম্পাদিত রাজনৈতিক ও সামরিক মিত্রতাকে বোঝায়।
জার্মানির নেতৃত্বে গঠিত ত্রিশক্তি চুক্তি (Triple Alliance)-র বিপরীতে ইউরোপে শক্তিসাম্য রক্ষা এবং জার্মানির ক্রমবর্ধমান শক্তি ও আগ্রাসন প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে এই ত্রিদেশীয় আঁতাত আনুষ্ঠানিকভাবে গড়ে উঠেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯১৪ সালের 'প্রথম বিশ্বযুদ্ধ'-এর প্রত্যক্ষ কারণ ও দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে।
১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ এবং তাঁর স্ত্রী সোফি বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে এক সার্বীয় জাতীয়তাবাদী গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপের গুলিতে নিহত হন। অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সার্বিয়াকে দায়ী করে আল্টিমেটাম দেয় এবং পরবর্তীতে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে মিত্রতার জালে ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলো একে একে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'একটি দেশে এক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু' মূলত অস্ট্রিয়ান যুবরাজ ও তাঁর স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডকে নির্দেশ করে, যা বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ সারায়েভো হত্যাকাণ্ড হলেও এর মূল ও দীর্ঘমেয়াদি কারণ ছিল সাম্রাজ্যবাদ—উক্তিটি যথার্থ।
অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিত করার জন্য ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপনের চরম প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ব্রিটেন ও ফ্রান্স আগেভাগেই পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে জার্মানি ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হলে বিশ্ববাজার ও উপনিবেশ দখলের প্রতিযোগিতায় নামে।
এই ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, গোপন চুক্তি, সামরিক জোট গঠন (যেমন- ত্রিশক্তি চুক্তি ও ত্রিশক্তি আঁতাত) এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। প্রতিটি শক্তিই তাদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তোলে। সারায়েভো হত্যাকাণ্ড কেবল বারুদের স্তূপে আগুনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছিল, কিন্তু বারুদের স্তূপ তৈরি করেছিল সাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
অতএব, সামগ্রিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ঔপনিবেশিক দখলদারিত্ব ও সাম্রাজ্যবাদী লিপ্সাই ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল ও গভীরতম কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও