ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

নাদির শাহ প্রজাদের সুবিধার্থে যে খাল খনন করেছিলেন তা আমাতুন বিবির খাল নামে পরিচিত। নাদির শাহের রাজ্যের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মানুষের মুখে মুখে। প্রজাদের প্রতি তার দরদ বিশ্ববাসী জেনে যায়। তার পার্শ্ববর্তী শক্তিধর রাজ্যের শাসক মানিক চাঁদ একবার তার রাজ্য আক্রমণ করলে নাদির শাহ এমন দাঁতভাঙা জবাব দেন যে, মানিক চাঁদ তার আনুগত্য স্বীকার করে কর প্রদানে বাধ্য হন।

  1. ক)

    খায়জুরান কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বার্মাকি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আমাতুন বিবির খাল-এর সাথে খলিফা হারুন-অর-রশীদের রাজত্বকালের কোন জনহিতকর কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নাদির শাহের সাথে মানিক চাঁদের সংঘর্ষের মতোই হারুন-অর-রশীদ পার্শ্ববর্তী শাসকের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিলেন- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খায়জুরান ছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদির প্রিয়তমা মহিষী এবং খলিফা আল-হাদী ও হারুন-অর-রশীদের মাতা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বার্মাকি বলতে আব্বাসীয় খিলাফতের এক বিখ্যাত ইরানি বংশোদ্ভূত উজির পরিবারকে বোঝায়। এই পরিবারের পূর্বপুরুষ খালিদ বিন বার্মাক থেকে শুরু করে ইয়াহিয়া বার্মাকি এবং তাঁর পুত্র জাফর ও ফজল আব্বাসীয়দের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত প্রভাবশালী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'আমাতুন বিবির খাল'-এর সাথে খলিফা হারুন-অর-রশীদের রাজত্বকালের রানী যুবায়দা কর্তৃক খননকৃত বিখ্যাত 'নহরে যুবায়দা' (যুবায়দা খাল)-এর মিল রয়েছে।
    হজের সময় মক্কায় তীব্র পানিকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে হারুন-অর-রশীদের মহীয়সী পত্নী রানী যুবায়দা তাঁর ব্যক্তিগত বিপুল অর্থ ব্যয়ে হুনাইন উপত্যকা থেকে মক্কা পর্যন্ত একটি দীর্ঘ খাল খনন করেন, যা ইতিহাসে 'নহরে যুবায়দা' নামে পরিচিত। উদ্দীপকে নাদির শাহের প্রজাদের সুবিধার্থে খননকৃত আমাতুন বিবির খালটি রানী যুবায়দার জনহিতকর এ ঐতিহাসিক খালেরই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নাদির শাহ যেমন মানিক চাঁদের আক্রমণ প্রতিরোধ করে তাকে কর প্রদানে বাধ্য করেছিলেন, তেমনি খলিফা হারুন-অর-রশীদও তৎকালীন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে তাদের পরাজিত ও কর প্রদানে বাধ্য করেছিলেন।

    হারুন-অর-রশীদের শাসনামলে বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী আইরিন মুসলিমদের সাথে শান্তি চুক্তি বজায় রেখে নিয়মিত কর প্রদান করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিসিফোরাস (Nicephorus) ক্ষমতা দখল করে হারুনকে এক উদ্ধত চিঠি পাঠিয়ে কর দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং পূর্বের কর ফেরত চান। এর জবাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ সসৈন্যে বাইজেন্টাইন আক্রমণ করেন এবং হেরাক্লিয়া জয় করে নিসিফোরাসকে চরমভাবে পরাজিত করেন। ফলে নিসিফোরাস নতজানু হয়ে বশ্যতা স্বীকার করতে এবং পুনরায় অধিক কর প্রদানে বাধ্য হন।
    অতএব, পার্শ্ববর্তী শক্তিধর শাসককে দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে কর প্রদানে বাধ্য করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ঘটনাটি খলিফা হারুন-অর-রশীদের বাইজেন্টাইন অভিযানের সম্পূর্ণ অনুরূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন