ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
উগ্র জাতীয়তাবাদ ও দ্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে ইউরোপের একটি রাষ্ট্র বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের দাবানল সৃষ্টি করে। এক সময় রাষ্ট্রটি পরাজিত শক্তি হিসেবে শান্তিপ্রাপ্ত হয় এবং শান্তি হিসেবে রাষ্ট্রটিকে দু'ভাগে ভাগ করে শক্তি খর্ব করা হয়।
- ক)(1)
নাৎসিদের পোশাকের রং কীরূপ ছিল?
- খ)(2)
ফ্যাটম্যান কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে যুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি উত্ত রাষ্ট্রটিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল'- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাৎসিদের পোশাকের রং ছিল বাদামি (Brown)। নাৎসি পার্টির সামরিক শাখা বা স্টুর্ম আবটেইলুং (SA) বাদামি রঙের শার্ট পরিধান করত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ফ্যাটম্যান' (Fat Man) হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকি শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা পারমাণবিক বোমার সাংকেতিক নাম।
১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট মার্কিন বিমানবাহিনী জাপানের নাগাসাকি শহরে এই প্লুটোনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বোমাটি বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ফলে নাগাসাকি শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এর আগেই ৬ আগস্ট হিরোশিমায় 'লিটল বয়' ফেলা হয়েছিল। এই দুই পরমাণু বোমার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে জাপান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধের দাবানলটি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫)। উগ্র জাতীয়তাবাদ, একনায়কতন্ত্র এবং হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মানির আগ্রাসী নীতির কারণে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ভার্সাই সন্ধির অবিচার: প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভার্সাই সন্ধি ছিল পরাজিত জার্মানির ওপর একতরফা ও চরম অপমানজনক। এর ফলে জার্মানদের মনে প্রতিশোধস্পৃহা তীব্র হয়ে ওঠে।
২. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ফ্যাসিবাদের উত্থান: ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদ এবং জার্মানি ও জাপানে উগ্র সামরিকবাদের বিকাশ শান্তি বিঘ্নিত করে। বিশেষ করে হিটলারের নাৎসিবাদী মতাদর্শ বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখায়।
৩. তোষণ নীতি: ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো বৃহৎ শক্তিগুলো হিটলারের একের পর এক অন্যায় রাজ্যগ্রাস মেনে নিয়ে তোষণ নীতি গ্রহণ করে, যা তাকে আরও বেপরোয়া করে তোলে।
৪. প্রত্যক্ষ কারণ: ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সূচনা ঘটে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের ফলে জার্মানি যে চরম মানবিক, রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল, তার আলোকে প্রদত্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
প্রথমত, যুদ্ধের ফলে জার্মানি ভূখণ্ডগতভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পটসডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জার্মানিকে প্রধান চারটি মিত্রশক্তি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এর পরিণতিতে ১৯৪৯ সালে জার্মানি বিভক্ত হয়ে পুঁজিবাদী 'পশ্চিম জার্মানি' (ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি) এবং সমাজতান্ত্রিক 'পূর্ব জার্মানি' (জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক) নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। বিভক্ত বার্লিন শহরটি স্নায়ুযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
দ্বিতীয়ত, জার্মানির অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের শিল্পকারখানা, রেলপথ ও শহরগুলো বোমা হামলায় ধূলিসাৎ হয়ে যায়। মিত্রশক্তির কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রচুর সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়।
তৃতীয়ত, সামরিকভাবে জার্মানিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক এক অবর্ণনীয় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি হয়।
অতএব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি জার্মানির জন্য সীমাহীন রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও