ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আব্বাসি বংশের ৩য় খলিফা আল মাহদী ৭৭৫ সালে বাগদাদের খলিফা হওয়ার পর বহুমুখী বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তাঁর শাসনামলে কদাকার খর্বাকৃতি বা খাটো হাশিম বিন হাকিম (মুক্কানা) নিজেকে আল্লাহর অবতার ও ভন্ডনবি বলে মিথ্যা নবুয়ত দাবি করেন। এ ভণ্ডনবির যথেষ্ট অনুসারি ছিল। তারা সাদা কাপড় ব্যবহার করত বলে তাদেরকে 'মুবায়িদ' বলা হতো। তাছাড়া বাগদাদের পূর্বদিকে 'মুহাম্মির' নামক আর এক দল ভণ্ড লোকের উদ্ভব হয়। তাদের 'জিন্দিক' বলা হতো। পারস্যের কেউ কেউ আবার যাকাত দিতেও অস্বীকার করে। খলিফা মাহদী কঠোর হস্তে সকল ভন্ডনবি এবং ভণ্ড ধর্মীয় নেতাদেরকে দমন করেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের যাকাত দিতে বাধ্য করেন।

  1. ক)

    মহানবি (স) কত সালে খায়বার জয় করেন?

    (1)
  2. খ)

    মুতার যুদ্ধে মহানবি (স) পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা করেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের খলিফা আল মাহদী-এর কার্যক্রমের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন খলিফার কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত খলিফার বিদ্রোহ দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করো।।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহানবি (স.) ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে (মতান্তরে ৭ম হিজরিতে) খায়বার জয় করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুতার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত রাখা এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে মহানবি (স.) পর্যায়ক্রমে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা করেন।

    ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে রোমানদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই যুদ্ধটি ছিল অত্যন্ত অসম, যেখানে মুসলিম বাহিনীর ৩,০০০ সৈন্যের বিপরীতে রোমানদের বিশাল বাহিনী ছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে রাসুলুল্লাহ (স.) নির্দেশ দেন যে, প্রধান সেনাপতি জায়েদ বিন হারেসা শহীদ হলে জাফর বিন আবু তালিব নেতৃত্ব দেবেন, তিনিও শহীদ হলে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন। যুদ্ধের সম্ভাব্য সংকটময় পরিস্থিতিতে নেতৃত্বশূন্যতা রোধ করতেই তিনি এই অগ্রিম কৌশল গ্রহণ করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের খলিফা আল মাহদীর কার্যক্রমের সাথে পাঠ্যবইয়ের ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)-এর কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে।

    মহানবি (স.)-এর ওফাতের পর আরবে ভণ্ডনবিদের আবির্ভাব, ইসলাম ত্যাগ (রিদ্দা) এবং যাকাত দিতে অস্বীকার করার মতো বহুমুখী সংকট দেখা দেয়। খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার সাথে ভণ্ডনবিদের কঠোর হস্তে দমন করেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা করেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, খলিফা আল মাহদী মসনদে বসে ভণ্ডনবি মুক্কানা, জিন্দিক সম্প্রদায় এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের কঠোর হস্তে দমন করে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও ভণ্ডনবিদের দমন এবং যাকাত আদায়ে আপসহীন পদক্ষেপ গ্রহণের এই দিকটিতে খলিফা আল মাহদীর সাথে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর কার্যক্রমের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) নব্য ইসলামি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিদ্রোহ দমনে যে বলিষ্ঠ ও আপসহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা ইসলামকে রক্ষা করতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল।

    মহানবি (স.)-এর মৃত্যুর পর ইসলামি রাষ্ট্র যখন ধ্বংসের মুখে, তখন হজরত আবু বকর (রা.) কোনো ধরনের আপস না করে দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাঁর গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ভণ্ডনবি দমন: তুলায়হা, মুসায়লামা, আসওয়াদ আনসি এবং সাজাহ নামক ভণ্ডনবিরা নবুয়তের দাবি করলে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-সহ অভিজ্ঞ সেনাপতিদের পাঠিয়ে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে তাদের মূলোৎপাটন করেন। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসায়লামা পরাজিত ও নিহত হয়।
    ২. যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: যেসব গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, "রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সময়ে দেওয়া একটি ছাগলের দড়িও যদি কেউ দিতে অস্বীকার করে, তবে তার বিরুদ্ধেও আমি জিহাদ করব।"
    ৩. রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: তিনি সমগ্র আরব ভূখণ্ডকে ১১টি সামরিক অঞ্চলে বিভক্ত করে যোগ্য সেনাপতিদের নেতৃত্বে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন এবং বিদ্রোহীদের আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন।

    এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আবু বকর (রা.) ইসলামি রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষা করেন, যার কারণে তাঁকে ইসলামের 'ত্রাণকর্তা' বলা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন