সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৬

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পার্থিবের নতুন বন্ধুটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। এদের সমাজ আদাম, মৌজা, সার্কেল এরূপ স্তরে বিভক্ত। প্রত্যেক স্তরে একজন প্রধান ব্যক্তি কর্তৃত্ব করেন। রাজা এই সমাজের ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। কলেজে পার্থিবের আরেকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বন্ধু ছিল, যাদের বসবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এদের সমাজ মায়ের কর্তৃত্বে পরিচালিত। বিয়ের পর ছেলে স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করে।

  1. ক)

    ওয়ানগালা' কী?

    (1)
  2. খ)

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামাজিক পরিবর্তনের সম্পর্ক কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পার্থিবের কলেজের বন্ধুটি কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর? বুঝিয়ে লেখো

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পার্থিবের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুটির সামাজিক সংগঠনের সাথে বাঙালি সমাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ওয়ানগালা' হলো গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান নবান্ন ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উৎসব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সামাজিক পরিবর্তনের অত্যন্ত গভীর ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সমাজে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা কৃষি থেকে শিল্পায়ন এবং গ্রামীণ সমাজ থেকে নগরায়নের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নেয়, পেশাগত গতিশীলতা সৃষ্টি হয়, এবং সনাতন সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রথার পরিবর্তন ঘটে নতুন নতুন সামাজিক কাঠামো গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পার্থিবের কলেজের বন্ধুটি 'গারো' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর।

    উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে বন্ধুটির বসবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে, তাদের সমাজ মায়ের কর্তৃত্বে পরিচালিত এবং বিয়ের পর ছেলে স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে। এ বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে গারো সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    গারোরা বাংলাদেশের একটি অন্যতম মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, যাদের প্রধান বসতি বৃহত্তর ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায়। গারো পরিবারে মায়েরাই পরিবারের প্রধান ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। বিয়ের পর বর কনের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করে এবং বংশমর্যাদা মাতৃধারায় নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে পার্থিবের কলেজের বন্ধুটি গারো নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পার্থিবের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুটি 'চাকমা' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। চাকমা সমাজের সামাজিক সংগঠনের সাথে বাঙালি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিল ও অমিল বা তুলনামূলক পার্থক্য বিদ্যমান।

    চাকমা সমাজ ব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে ত্রিস্তরবিশিষ্ট কাঠামোয় পরিচালিত। এর সর্বনিম্ন স্তর হলো 'আদাম' বা গ্রাম, যার প্রধান হলেন 'কার্বারি'। কয়েকটি আদাম নিয়ে গঠিত হয় 'মৌজা', যার প্রধান 'হেডম্যান'। কয়েকটি মৌজা নিয়ে গঠিত হয় 'সার্কেল', যার প্রধান হলেন 'রাজা'। রাজা চাকমা সমাজের ঐতিহ্য, ঐক্য ও সংহতির প্রতীক এবং তিনি সামাজিক বিচার-আচার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেন। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং পিতাই পরিবারের প্রধান।

    অপরদিকে বাঙালি সমাজের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো স্থানীয় সরকার (গ্রাম, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ইত্যাদি) এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক নিয়মে পরিচালিত। এখানে চাকমা সমাজের মতো রাজা, হেডম্যান বা কার্বারি ব্যবস্থা নেই; বরং নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব দেন। তবে চাকমাদের মতো বাঙালি সমাজও পিতৃতান্ত্রিক এবং পরিবারে পিতার কর্তৃত্ব বজায় থাকে।

    চাকমাদের সামাজিক ঐক্য তাদের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের আনুগত্যের মাধ্যমে সুদৃঢ় থাকে, যা আধুনিক বাঙালি সমাজে অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং, চাকমাদের চিরায়ত প্রথাগত সামাজিক সংগঠনের সাথে আধুনিক বাঙালি সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন