ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় 'আলোকিত সাহিত্য পরিষদ' গঠিত হয়। দেশি-বিদেশি প্রচুর গ্রন্থের সমাবেশ রয়েছে এখানে। এখানে গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ, অনুবাদ ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠান ভালো লেখক ও নতুন গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, আর্থিক অনুদান ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে।

  1. ক)

    মান মন্দির কী?

    (1)
  2. খ)

    নহরে জুবাইদার বিবরণ দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাহিত্য পরিষদের সাথে খলিফা আল মামুনের কোন প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সহযোগিতা ছাড়াও আল-মামুন তার গবেষকদের গবেষণাকর্মে আর কী কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মান মন্দির হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ ও গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত গবেষণাগার বা পর্যবেক্ষণাগার (Observatory)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা হারুন-অর-রশিদের মহীয়সী স্ত্রী রানি জুবাইদা হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় হাজিদের তীব্র পানির কষ্ট প্রত্যক্ষ করেন। হাজিদের এই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য তিনি প্রায় ৩০ লাখ দিনার বা বিপুল অর্থ ব্যয় করে হুনায়ন উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে মক্কার সমভূমি এবং আরাফাতের ময়দান পর্যন্ত একটি দীর্ঘ খাল বা পানির নালা খনন করান। জনকল্যাণমূলক এই ঐতিহাসিক খালের নাম রানি জুবাইদার নামানুসারে 'নহরে জুবাইদা' রাখা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'আলোকিত সাহিত্য পরিষদ'-এর সাথে খলিফা আল-মামুনের জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান 'বাইতুল হিকমাহ'-এর মিল রয়েছে।

    আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে 'বাইতুল হিকমাহ' (জ্ঞানের গৃহ) প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল একই সাথে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার বা গ্রন্থালয়, উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র এবং অনুবাদ একাডেমি। এখানে গ্রিক, সংস্কৃত, সুরিয়ানি, ফারসি প্রভৃতি ভাষার অমূল্য গ্রন্থাবলি সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করা হতো।

    উদ্দীপকের সাহিত্য পরিষদেও প্রচুর দেশি-বিদেশি গ্রন্থ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লেখক ও গবেষকদের আর্থিক অনুদান ও প্রণোদনা দেওয়া হয়। একইভাবে বাইতুল হিকমাহ-তেও গবেষক ও অনুবাদকদের বিপুল পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হতো। তাই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির সাথে বাইতুল হিকমাহ-এর সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ, অনুবাদ, তথ্য সরবরাহ, আর্থিক অনুদান ও পুরস্কার ছাড়াও খলিফা আল-মামুন জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রসারে বহুবিধ সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. আন্তর্জাতিক গ্রন্থ সংগ্রাহক দল প্রেরণ: খলিফা আল-মামুন বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য, কনস্টান্টিনোপল, ভারত ও পারস্যের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ দূত পাঠিয়ে প্রাচীন ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।

    ২. মান মন্দির (অবজারভেটরি) প্রতিষ্ঠা: জ্যোতির্বিজ্ঞানের ব্যবহারিক গবেষণার জন্য তিনি বাগদাদের শাম্মাসিয়া এবং দামেস্কের কাসিউন পাহাড়ে মান মন্দির স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে মুসলিম বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় ও নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।

    ৩. মুক্তচিন্তা ও বিদগ্ধ বিতর্ক সভা: খলিফার রাজদরবারে নিয়মিত জ্ঞানগর্ভ বিতর্ক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে ধর্ম, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞান নিয়ে স্বাধীনভাবে মতবিনিময় করা হতো। তিনি 'মুতাজিলা' মতবাদের দার্শনিক যুক্তিবাদকে উৎসাহিত করেন।

    ৪. অমুসলিম ও বৈচিত্র্যময় পণ্ডিতদের নিয়োগ: আল-মামুন মেধার ভিত্তিতে গবেষকদের মূল্যায়ন করতেন। তিনি খ্রিস্টান পণ্ডিত হুনায়ন ইবনে ইসহাক, ইয়াহইয়া ইবনে মাসাওয়াইহ প্রমুখকে বাইতুল হিকমাহর অনুবাদক ও প্রধান হিসেবে উচ্চ বেতনে নিযুক্ত করেন। অনুবাদকৃত গ্রন্থের ওজনের সমপরিমাণ সোনা দিয়েও তিনি অনেক অনুবাদককে পুরস্কৃত করতেন।

    ৫. চিকিৎসালয় ও হাসপাতালের পৃষ্ঠপোষকতা: বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্রের চর্চার জন্য তিনি বাগদাদে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

    সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সহায়তার বাইরেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, মান মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং মেধার সর্বজনীন মূল্যায়ন নিশ্চিত করে আল-মামুন এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব সাধন করেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন