ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
অবনি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব কালাম অধস্তন কর্মীদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন অধস্তনরা ব্যক্তিগত অসুবিধা ব্যতিরেকে কাজে ফাঁকি দেয় না। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরা অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে কাজের প্রতি তাদের অঙ্গীকার বৃদ্ধি পায়। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হন না। আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি কোনো কাজ করেন না। যেকোনো সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তিকে অধিক গুরুত্ব দেন। স্বল্পভাষী জনাব কালামকে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বেশ পছন্দ করে।
- ক)(1)
কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্ব কী?
- খ)(2)
'লাগামহীন নেতৃত্ব কার্যকর হয় না'-ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে জনাব কালামের নেতৃত্বের ধরন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আদর্শ নেতার গুণাবলির আলোকে জনাব কালামের নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে নেতৃত্ব পদ্ধতিতে নেতা মানুষের চেয়ে কাজ উদ্ধার ও উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেন এবং কর্মীদের কেবল উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাকে কর্মকেন্দ্রিক নেতৃত্ব বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাগামহীন বা মুক্ত নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের ওপর কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি রাখেন না; সম্পূর্ণ ক্ষমতা ও কাজের স্বাধীনতা কর্মীদের ওপর ছেড়ে দিয়ে নেতা নিজে নিষ্ক্রিয় থাকেন।
এর ফলে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা, দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। জবাবদিহিতা না থাকায় কর্মীরা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করে এবং লক্ষ্য অর্জনে বিচ্যুতি ঘটে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে এমন নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর বা ফলপ্রসূ হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে জনাব কালামের নেতৃত্বের ধরন হলো 'গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব' (Democratic Leadership)।
যে নেতৃত্বে নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করেন, কর্মীদের মতামতের মূল্য দেন এবং তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এতে কর্মীদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সন্তুষ্টি বাড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব কালাম অধস্তনদের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং বিশ্বাস করেন যে ব্যক্তিগত অসুবিধা ছাড়া কর্মীরা কাজে ফাঁকি দেয় না। তাছাড়া তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কর্মীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেন, যার ফলে কর্মীদের অঙ্গীকার বৃদ্ধি পায়। অধস্তনদের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ও ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আদর্শ নেতার গুণাবলির আলোকে জনাব কালামের নেতৃত্ব অত্যন্ত সফল, বিচক্ষণ ও প্রশংসনীয়।
একজন আদর্শ নেতার মধ্যে দূরদর্শিতা, দৃঢ় মনোবল, আত্মনিয়ন্ত্রণ, নিরপেক্ষতা, অধস্তনদের প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা ও মানবীয় আচরণের মতো গুণাবলি থাকা আবশ্যক। এসব গুণাবলি একজন নেতাকে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ করে তোলে।
উদ্দীপকে জনাব কালামের মধ্যে আদর্শ নেতার বহুবিধ গুণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রথমত, তিনি অধস্তনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও তাদের ওপর আস্থাবান, যা তাঁর মানবিক গুণ ও প্রেষণাদানের সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দ্বিধাবোধ করেন না, যা তাঁর দৃঢ়তা ও সাহসিকতার পরিচায়ক। তৃতীয়ত, তিনি আবেগের বশবর্তী না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেন এবং তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তিকে প্রাধান্য দেন, যা তাঁর প্রখর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার প্রমাণ বহন করে। পরিশেষে, স্বল্পভাষী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ব্যক্তিত্ব কর্মীদের কাছে আকর্ষণীয়।
সুতরাং, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় জনাব কালাম একজন দূরদর্শী, সুশৃঙ্খল এবং আদর্শ গণতান্ত্রিক নেতার সমস্ত ইতিবাচক গুণাবলি ধারণ করেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও