গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরিপাক কাকে বলে?
- খ)(2)
“লালা রস খাদ্যকে পিচ্ছিল করে।”— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'X' অংশটি চিহ্নিত করে এর কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'Y' অংশে ভাত, রুটি, চিনি জাতীয় খাদ্য পরিপাক সম্পন্ন হয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল, অদ্রবণীয় ও শোষণ-অনুপযোগী খাদ্য উপাদানগুলো বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে এবং এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে কোষের গ্রহণোপযোগী সরল, দ্রবণীয় ও তরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লালা রসে প্রধানত জলীয় উপাদান ও মিউসিন নামক এক প্রকার পিচ্ছিল পদার্থ থাকে। খাদ্য চিবানোর সময় লালা রস খাদ্যের সাথে ভালোভাবে মিশে যায়। এর মিউসিন অংশটি শুষ্ক ও শক্ত খাদ্যকে নরম, মসৃণ এবং পিচ্ছিল করে তোলে, যার ফলে খাদ্যবস্তু সহজে দলা পাকিয়ে পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং মুখগহ্বর থেকে গ্রাসনালী দিয়ে পাকস্থলীতে সহজে নেমে যেতে (গিলতে) পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'X' অংশটি হলো মানবদেহের অন্যতম প্রধান পরিপাক গ্রন্থি যকৃৎ (Liver)।
যকৃতের প্রধান কাজগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পিত্তরস তৈরি ও নিঃসরণ: যকৃৎ প্রতিনিয়ত পিত্তরস বা পিত্ত তৈরি করে যা পিত্তথলিতে জমা থাকে। এই পিত্তরস স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত (ইমালসিফিকেশন) করে পরিপাকে সহায়তা করে।
২. সঞ্চয়ী ভূমিকা: অতিরিক্ত গ্লুকোজকে যকৃৎ গ্লাইকোজেন হিসেবে জমা রাখে (গ্লাইকোজেনেসিস)। এছাড়া ভিটামিন (A, D, E, K, B12) এবং খনিজ লবণ (লোহা, কপার) সঞ্চয় করে।
৩. বিপাকীয় কাজ: কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট বিপাকে এটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙে ইউরিয়ায় পরিণত করে (ডিঅ্যামিনেশন)।
৪. বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন ও বিষমুক্তকরণ: রক্তে প্রবেশ করা বিভিন্ন ক্ষতিকর বা বিষাক্ত পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করে দেহকে রক্ষা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'Y' অংশটি হলো অন্ত্র (প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্র)। ভাত, রুটি ও চিনি হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। ক্ষুদ্রান্ত্রে বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী এনজাইমের ক্রিয়ায় এগুলোর সম্পূর্ণ পরিপাক ঘটে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অগ্ন্যাশয় রসের ভূমিকা: ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে অগ্ন্যাশয় থেকে আসা অগ্ন্যাশয় রসে থাকা 'এমাইলেজ' এনজাইম ভাত বা রুটির অবশিষ্ট অপাচিত জটিল শর্করা (শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেন)-কে ভেঙে ডাইস্যাকারাইড মল্টোজে পরিণত করে।
২. আন্ত্রিক রসের ভূমিকা: ক্ষুদ্রান্ত্রের নিজস্ব আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত আন্ত্রিক রসে একাধিক কার্বোহাইড্রেট বিশ্লেষক এনজাইম থাকে:
- মল্টেজ: মল্টোজ শর্করাকে ভেঙে দুই অণু গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে।
- সুক্রোজ (চিনি): সুক্রোজ এনজাইম বা ইনভার্টেজ চিনির উপাদান সুক্রোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে।
- ল্যাক্টেজ: দুগ্ধ শর্করা বা ল্যাক্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিণত করে।
এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাকের সমাপ্তিতে সমস্ত ভাত, রুটি ও চিনি জাতীয় শর্করা ভেঙে মানবদেহের শোষণোপযোগী সরলতম শর্করা অর্থাৎ গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই দ্বারা এই সরল গ্লুকোজ সহজেই রক্তে শোষিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের 'Y' অংশ বা ক্ষুদ্রান্ত্রেই শর্করা জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাক সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও