ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে জনমত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে একটি সংবিধান রচিত হয়। এতে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও দায়িত্ব- কর্তব্য সংরক্ষিত হয়। এই সংবিধান অনুসারেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে।
- ক)(1)
কত খ্রিষ্টাব্দে মক্কা বিজয় হয়েছিল?
- খ)(2)
হুদাইবিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (সা.)-এর প্রণীত কোন ব্যবস্থাপনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রাষ্ট্রের সংহতি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধানের ভূমিকা উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে (৮ম হিজরি) মক্কা বিজয় হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হুদাইবিয়ার সন্ধিকে পবিত্র কুরআনে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' বলা হয়েছে, কারণ আপাতদৃষ্টিতে এর শর্তগুলো মুসলমানদের জন্য অসম্মানজনক মনে হলেও পরিণামে এটি ইসলামের দ্রুত বিস্তার ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির পথ উন্মুক্ত করেছিল।
এই সন্ধির ফলে কুরাইশরা মদিনা রাষ্ট্র এবং মহানবি (সা.)-কে একটি স্বাধীন পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যুদ্ধবিরতির ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে অবাধ মেলামেশা ও ভাব বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়, যার ফলে দলে দলে মানুষ ইসলামের শান্তিময় আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। সন্ধির পরবর্তী দুই বছরে যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা পূর্ববর্তী বিশ বছরেও সম্ভব হয়নি। এই চুক্তিই পরবর্তীকালে বিনাযুদ্ধে মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিল বলেই একে 'ফাতহুম মুবিন' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সংবিধান প্রণয়নের সাথে মহানবি (সা.) কর্তৃক প্রণীত পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ'-এর মিল রয়েছে।
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি (সা.) মদিনায় হিজরতের পর মুহাজির, আনসার এবং বিভিন্ন ইহুদি ও পৌত্তলিক গোত্রগুলোর মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, যা 'মদিনা সনদ' নামে খ্যাত। এই সনদে মোট ৪৭টি (মতান্তরে ৫৩টি) ধারা ছিল। এতে মদিনার সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে যৌথভাবে মদিনা রক্ষার অঙ্গীকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নাগরিকদের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যে সংবিধান রচনার কথা বলা হয়েছে, তা মহানবি (সা.) কর্তৃক মদিনার বহুজাতি ও বহুধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত করে একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত মদিনা সনদের উদ্দেশ্যের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রের সংহতি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সংবিধানের ভূমিকা অপরিসীম, যা উদ্দীপক ও মহানবি (সা.)-এর মদিনা সনদের আলোকে গভীরভাবে প্রমাণিত হয়।
একটি রাষ্ট্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নিয়মনীতি ও আইনের রূপরেখা প্রয়োজন। উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
ইসলামের ইতিহাসে মহানবি (সা.) মদিনা সনদের মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা ছিল একটি আদর্শ সংবিধানের প্রকৃত প্রতিফলন। মদিনা সনদের ফলে রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে লিপ্ত আওস ও খাজরাজ গোত্র এবং ইহুদিদের মধ্যে বিরোধের অবসান ঘটে এবং এক অভূতপূর্ব জাতীয় সংহতি গড়ে ওঠে। সনদে আইনের শাসন, বিচারব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসে। এতে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল, যার ফলে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ মদিনা রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হয়েছিল।
অতএব, উদ্দীপকের সংবিধান এবং ইসলামের মদিনা সনদ উভয়ের পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয় যে, বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো একটি কার্যকর ও সর্বজনগ্রাহ্য সংবিধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও