ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
পৃথিবীর দীর্ঘ সময় ঘটা ভাষা আন্দোলনের মধ্যে মানভূমের বাংলা ভাষা আন্দোলন একটি। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে এই আন্দোলন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে। ১৯৫৬ সালের আগে পুরুলিয়া জেলা বিষারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জাতীয় কংগ্রেসের বাংলাভাষী সদস্যদের দ্বারা হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেস্টা ব্যর্থ হয়। গঠিত হয় 'লোকসেবক সংঘ' নামে জাতীয়তাবাদী দল। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি এতে যোগদান করে। আন্দোলনে হাজার হাজার বাংলাভাষী কারাবরণ করে। ফলে ১৯৫৬ সালে ভারত সরকার মানভূম জেলা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে পুরুলিয়া নামে একটি নতুন জেলা সংযুক্ত করতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
একজন ভাষা শহিদের নাম লেখো।
- খ)(2)
শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল' পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন ভাষা শহিদের নাম রফিকউদ্দিন আহমদ (কিংবা সালাম, বরকত, জব্বার)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের মহান আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছিল।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। শহিদদের এই অভূতপূর্ব আত্মদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে এবং তাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার দাবিকে সুদৃঢ় করতে পরদিনই অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা প্রথম এই স্মৃতির মিনার তৈরি করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের '১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানভূমের বাংলাভাষী জনগণের ওপর হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা মাতৃভাষা বাংলার সুরক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত বহু ত্যাগের বিনিময়ে নিজস্ব পরিচয় সংরক্ষণ করে।
একইভাবে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে। অতএব, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে মানভূমের আন্দোলনের সাথে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মূলত 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল'— উক্তিটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ ও সত্য।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হলেও ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পেরেছিল যে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ বাঙালির প্রকৃত মুক্তির পথ নয়। এর মাধ্যমে তৎকালীন রাজনীতিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তনের সূচনা হয়:
১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: ভাষা আন্দোলন ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের পরিবর্তে ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ'-এর উন্মেষ ঘটায়। এই জাতীয়তাবাদী চেতনাই পরবর্তীকালে স্বাধীনতার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
২. পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ: পাকিস্তান সৃষ্টির পর এটিই ছিল পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম বলিষ্ঠ ও রক্তক্ষয়ী গণপ্রতিরোধ, যা বাঙালিকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলে।
৩. ধারাবাহিক আন্দোলনের উৎস: ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের ফলেই বাঙালি পরবর্তী প্রতিটি ধাপে আত্মবিশ্বাসের সাথে লড়াই করতে পেরেছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন— প্রতিটি রাজনৈতিক অর্জনের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল একুশের চেতনা।
পরিশেষে, এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের মাঝেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও