ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    এক ফসলি কৃষি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাণিজ্যিক কৃষি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্রের 'ক' অংশের উৎপাদনের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্রের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বছরে যে জমিতে কেবল একটিমাত্র ফসল উৎপাদিত হয়, তাকে এক ফসলি জমি বা এক ফসলি কৃষি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার ও সেচ ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারে বিক্রির জন্য ব্যাপকভাবে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করার পদ্ধতিকে বাণিজ্যিক কৃষি বলে। এ ধরনের কৃষিতে পারিবারিক চাহিদার চেয়ে বাজারজাতকরণ এবং অর্থনৈতিক লাভ প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করে। যেমন—চা, কফি, রাবার বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফল ও শাকসবজি চাষ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্রের 'ক' অংশটি হলো অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্য চাষ বা অভ্যন্তরীণ মৎস্য সম্পদ (মিঠাপানির মাছ)। উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, পুকুর ও হ্রদে এই মাছ চাষ ও আহরণ করা হয়।

    বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
    ১. অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য (নদী, সুন্দরবন, বিল, কাপ্তাই হ্রদ ও প্লাবনভূমি থেকে আহরণ): প্রাকৃতিক উৎস থেকে জেলেরা সারা বছর বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে মাছ আহরণ করে। ইলিশ, রুই, কাতলা, বোয়াল, শোল, আইড় ইত্যাদি মাছ এ উৎস থেকে প্রচুর পাওয়া যায়।
    ২. অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের মৎস্য (পুকুর, দিঘি, বাওড় ও মৌসুমি চাষের ঘের): বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিভিন্ন প্রজাতির কার্প জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল), পাঙাশ, তেলাপিয়া, কৈ ইত্যাদি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বদ্ধ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিক্ষেত্রটি হলো মৎস্য সম্পদ (বিশেষত অভ্যন্তরীণ মৎস্য খাত)। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জাতীয় আয়ে অবদান: বাংলাদেশের জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিজ জিডিপির এক বিশাল অংশ আসে এ খাত থেকে।
    ২. প্রাণিজ আমিষের জোগান: বাংলাদেশের মানুষের দৈনিক প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০% পূরণ হয় মাছ থেকে, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পুষ্টি নিরাপত্তায় মৌলিক ভূমিকা রাখে।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মৎস্য আহরণ, চাষ, বিপণন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহন কাজের সাথে দেশের প্রায় ১২ শতাংশের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে।
    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
    ৫. দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ অর্থনীতি: গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মৎস্য খামার স্থাপন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বাড়িয়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

    সুতরাং, পুষ্টির চাহিদা মেটানো, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে মৎস্য খাত বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন