ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

চেঙ্গিস খান শুধু তার নিজস্ব বীরত্বে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি । তার দক্ষ সেনাপতিদের রণনিপুনতাই তার সাম্রাজ্যের বিশাল বিস্তৃতির প্রধান কারণ ছিল। তাছাড়া সাম্রাজ্য বিস্তার করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। তার বিশাল সাম্রাজ্যকে তিনি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল নামক দুইটি প্রধান উইং এ বিভক্ত করে সেখানে দুইজন দক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিলেন। তারা দুইজনই পরস্পর প্রতিযোগিতার। মাধ্যমে রাজ্য বিস্তার করতেন। তবে এদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি মজা খান ছিলেন খুবই নৃশংস।

  1. ক)

    সর্বপ্রথম কোন খলিফা মধ্য এশিয়ায় রাজ্য বিস্তার করেছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্বের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মঞ্জু খানের সাথে প্রথম ওয়ালিদের শাসনামলের কোন প্রাদেশিক গভর্নরের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা, প্রথম ওয়ালিদও মূলত দক্ষ সেনাপতিদের কারণে খিলাফতের সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উমাইয়া খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার আমলে মধ্য এশিয়ায় প্রথম মুসলিম অভিযান পরিচালিত হয় (বা খলিফা উসমান/মুয়াবিয়া)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হিমারীয় (দক্ষিণ আরবের ইয়েমেনি আরব) এবং মুদারীয় (উত্তর আরবের কায়সি বা নজদি আরব)-দের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মূলত রক্তগত বা বংশগত কৌলীন্য, রাজনৈতিক প্রাধান্য বিস্তার এবং সম্পদের দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল। ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই তাদের মধ্যে বিদ্যমান গোত্রীয় আভিজাত্যের সংঘাত উমাইয়া আমলে রাজনৈতিক স্বার্থ ও খলিফাদের পক্ষাবলম্বনের কারণে পুনরুজ্জীবিত হয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নৃশংস দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি 'মঞ্জু খান'-এর সাথে খলিফা প্রথম ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাদৃশ্য রয়েছে।
    হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, নিষ্ঠুর এবং রণনিপুণ শাসক। বিদ্রোহ দমন ও রাজ্য বিস্তারে তিনি যেমন চরম নৃশংসতার পরিচয় দেন, তেমনি প্রথম ওয়ালিদের আমলে তিনিই তাঁর অধীনস্থ সেনাপতিদের (যেমন মুহাম্মদ বিন কাসিম ও কুতাইবা বিন মুসলিম) মাধ্যমে পূর্ব প্রান্তে মুসলিম সাম্রাজ্যের বিশাল বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন। উদ্দীপকের মঞ্জু খানের চরিত্রের নিষ্ঠুরতা ও রাজ্য বিস্তারের ভূমিকা মূলত হাজ্জাজ বিন ইউসুফের চরিত্রের সাথেই মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চেঙ্গিস খানের মতো উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদের খিলাফতের সর্বোচ্চ বিস্তৃতি মূলত তাঁর বিচক্ষণ ও রণনিপুণ সেনাপতিদের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছিল—উক্তিটি যথার্থ।

    প্রথম ওয়ালিদের আমলে উমাইয়া খিলাফত তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত হয়। এই গৌরবময় সম্প্রসারণের পেছনে খলিফার নিজস্ব যোগ্যতার চেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল তাঁর দক্ষ সেনাপতি ও গভর্নরদের। যেমন—
    ১. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠা করে বিস্তারের মূল সমন্বয়ক ছিলেন।
    ২. কুতাইবা বিন মুসলিম মধ্য এশিয়া তথা মাওয়ারাউন নাহার, বুখারা, সমরখন্দ ও ফারগানা জয় করেন।
    ৩. মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু ও মুলতান জয় করে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
    ৪. মুসা বিন নুসাইর ও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ উত্তর আফ্রিকার অবশিষ্ট অংশ এবং ৭১১ খ্রিস্টাব্দে স্পেন (আন্দালুসিয়া) জয় করেন।

    চেঙ্গিস খান যেমন নিজে এককভাবে নয়, বরং তাঁর সুদক্ষ সেনাপতিদের রণকৌশলের ওপর ভর করে বিস্তৃতি লাভ করেছিলেন, তেমনি খলিফা প্রথম ওয়ালিদও যোগ্য সামরিক প্রতিভা বাছাই করে তাঁদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর সময় খিলাফত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি লাভ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন