ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের অবসানকল্পে গেটিসবার্গে এক বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণে তিনি ক্রীতদাস প্রথার বিলোপ সাধনের ঘোষণা দেন। তিনি এ ভাষণে বর্ণবৈষম্য উচ্ছেদের ঘোষণা করেন এবং তিনি বলেন, "আজ থেকে কেউ কৃষ্ণাঙ্গ বা শ্বেতাঙ্গের দোহাই দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পারবে না।" দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের উন্নয়নকে 'ত্বরান্বিত করতে তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
- ক)(1)
কত সালে মহানবি (স) মক্কা বিজয় করেন?
- খ)(2)
ভণ্ড নবি কারা? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের ভাষণ তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ভাষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ভাষণ ছিল মানবজাতির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ দলিল- উক্তিটির বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স) ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে (৮ হিজরি) মক্কা বিজয় করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবি (স)-এর ওফাতের পূর্বমুহূর্তে এবং তাঁর ওফাতের পর আরবের যেসব ব্যক্তি প্রতারণামূলকভাবে নিজেকে আল্লাহর নবি হিসেবে দাবি করেছিল, তাদেরকে 'ভণ্ড নবি' বলা হয়।
ইসলামের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব দেখে কতিপয় ক্ষমতালোভী গোত্রনেতা নিজেদের স্বার্থ ও নেতৃত্ব বজায় রাখতে নবুয়তের মিথ্যা দাবি উত্থাপন করে। এদের মধ্যে আসওয়াদ আনসি, মুসায়লিমা (মুসায়লিমা কাযযাব), তুলায়হা এবং সাজাহ (এক নারী) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই ভণ্ড নবিদের বিদ্রোহ দমন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিংকনের ভাষণটি আমার পাঠ্যবইয়ের মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ঐতিহাসিক 'বিদায় হজের ভাষণ'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
দশম হিজরিতে (৬৩২ খ্রি.) মহানবি (স) তাঁর জীবনের শেষ হজ পালনকালে আরাফাতের ময়দানে জাবালে রাহমতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সমবেত লক্ষাধিক সাহাবির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। এই ভাষণে তিনি মানবসমতার সর্বজনীন মূলনীতি ঘোষণা করে বলেছিলেন, "কোনো অনারবের উপর কোনো আরবের, কিংবা কোনো আরবের উপর কোনো অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; তেমনি কোনো শ্বেতাঙ্গের উপর কৃষ্ণাঙ্গের বা কোনো কৃষ্ণাঙ্গের উপর শ্বেতাঙ্গের কোনো প্রাধান্য নেই— শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।" এছাড়াও তিনি ক্রীতদাসদের সাথে ভালো ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
উদ্দীপকে আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গের ভাষণেও ক্রীতদাস প্রথার বিলোপ, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান মর্যাদা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। ফলে মূলভাব ও সাম্যবাদের বার্তার দিক থেকে এটি মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের সাথেই হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিদায় হজের ভাষণ ছিল বিশ্বমানবতার মুক্তি ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক দলিল— উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৬৩২ খ্রিস্টাব্দে বিদায় হজের ভাষণে মহানবি (স) যে সকল সর্বজনীন মানবিক অধিকার ও দিকনির্দেশনা ঘোষণা করেছিলেন, তা আজকের আধুনিক মানবাধিকার সনদেরও মূলভিত্তি। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: বংশমর্যাদা ও বর্ণবৈষম্য দূর করে তিনি ঘোষণা করেন যে সকল মানুষ আদম (আ) থেকে সৃষ্টি এবং সবাই সমান। কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ ভেদাভেদ বিলুপ্ত করে তিনি বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের বীজ বপন করেন।
২. জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা: তিনি সমবেত জনতাকে বলেন, "আজকের এই পবিত্র দিন, এই মাস এবং এই পবিত্র শহরের মতো তোমাদের পরস্পরের রক্ত, ধন-সম্পদ ও সম্মান চিরতরে পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় ঘোষণা করা হলো।"
৩. দাস-দাসী ও দুর্বল শ্রেণির অধিকার: ক্রীতদাসদের মানুষ হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন— তোমরা যা আহার করবে তাদেরও তা খাওয়াবে, যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরাবে।
৪. নারীর অধিকার নিশ্চিতকরণ: তিনি নারীদের ওপর পুরুষের অধিকার এবং পুরুষের ওপর নারীর অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং নারীদের প্রতি সদয় ব্যবহারের কঠোর তাগিদ দেন।
৫. শোষণমুক্ত অর্থনীতি: তিনি সমাজ থেকে সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক শোষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।আধুনিক জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার সনদের (১৯৪৮ খ্রি.) চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মহানবি (স) এই ভাষণের মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা, সামাজিক সাম্য ও নারীর অধিকার সুদৃঢ় করেছিলেন। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠ এবং সর্বজনীন দলিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও