ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের শাসন ক্ষমতায় আসেন হ্যারন্ড ম্যাকমিলান। সমসাময়িককালে আয়ারল্যান্ডবাসীরা জীবনে চরম দুঃখ-দুর্দশা নেমে আসে। এ অবস্থা হতে পরিত্রাণের জন্য এগিয়ে আসেন একজন মহান নেতা- শন ম্যাকব্রাইড। তিনি আয়ারল্যান্ডবাসীর মুক্তির আশায় স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেন। বেশ কিছু দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও চতুর হ্যারন্ড ম্যাকমিলান তাদের দমনে একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আশ্রয় দেন। ফলশ্রুতিতে আন্দোলন আরো বেগবান হয় এবং ১৯৬৩ সালে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
মৌলিক গণতন্ত্রের আদেশ জারি করেন কে?
- খ)(2)
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয় কোনটিকে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মামলার সাথেসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্ত মামলাটির কার্যক্রম ও ফলাফল পর্যালোচনা করে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্রের আদেশ জারি করেন তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান (১৯৫৯ সালে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয় ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' কর্মসূচিকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই ছয় দফার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার রূপরেখা স্পষ্ট হয়। এ দাবির মাধ্যমে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা ঘটে। তাই ৬ দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি আমার পাঠ্যবইয়ের 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য)-র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, চতুর শাসক হ্যারল্ড ম্যাকমিলান স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে দমন করতে একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আশ্রয় নেন। একইভাবে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলন তথা ৬ দফা আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অভিযোগ করে যে আসামিরা ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। উদ্দীপকে শন ম্যাকব্রাইডের আন্দোলন দমনে ম্যাকমিলানের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়েরের সাথে আইয়ুব খান কর্তৃক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়েরের পটভূমি পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র কার্যক্রম ও ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, যা নিচে পর্যালোচনা করা হলো:
মামলার কার্যক্রম:
১৯৬৮ সালের ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। বিশিষ্ট আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য লন্ডন থেকে আসেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যাপক মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা করে, কিন্তু তা প্রকাশ্য আদালতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। একই সাথে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।মামলার ফলাফল:
১. গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা: মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে বাঙালি ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।
২. মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি: প্রচণ্ড গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নিঃশর্তে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং বঙ্গবন্ধুসহ সব বন্দিকে মুক্তি দেয়।
৩. 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভ: কারামুক্তির পরদিন অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
৪. আইয়ুব খানের পতন: তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।সুতরাং, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা আরও শক্তিশালী হয়, যা পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও