ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

আরশাদ আরও অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন গরুত্বপূর্ণ পদে একতরফাভাবে নিজ আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে অনেক যোগ্য লোক চাকরি পায়নি। অনেককে আবার জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়।

  1. ক)

    উষ্ট্রের যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    কোন খলিফাকে যুন্নুরাইন বলা হয় এবং কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আরশাদ মিয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা ওসমান (রা.)-এর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সাথে হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তুলনামূলক আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উষ্ট্রের যুদ্ধ ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-কে 'যুন্নুরাইন' বা 'দুই জ্যোতির অধিকারী' বলা হয়।

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কন্যা রুকাইয়া (রা.) এবং তাঁর মৃত্যুর পর উম্মে কুলসুম (রা.)-এর সাথে হযরত ওসমান (রা.)-এর বিয়ে হওয়ায় তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আরশাদ মিয়ার কর্মকাণ্ডে স্বজনপ্রীতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে আত্মীয়স্বজন নিয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সাথে খলিফা হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত 'স্বজনপ্রীতি'র অভিযোগের সাদৃশ্য রয়েছে।

    হযরত ওসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে বিভিন্ন প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে, বিশেষত কুফা, বসরা ও মিসরে তাঁর নিজ গোত্র বনু উমাইয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে। যেমন—কুফায় ওলিদ বিন ওকবা, মিসরে আবদুল্লাহ বিন সাদ এবং খলিফার প্রধান উপদেষ্টা বা সচিব পদে মারওয়ানকে নিয়োগ দান। উদ্দীপকে আরশাদ মিয়া যেভাবে নিজ আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে একতরফা নিয়োগ দেন ও অন্যদের অপসারণ করেন, হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধেও শাসনকার্যে তাঁর বনু উমাইয়া আত্মীয়দের অতিরিক্ত প্রাধান্য ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আরশাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বাস্তব স্বার্থকেন্দ্রিক, পক্ষান্তরে হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ছিল বহুলাংশে অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফসল।

    উদ্দীপকের আরশাদ মিয়া নিজের ইচ্ছামতো যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে এবং অনেককে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে একতরফাভাবে অযোগ্য আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছেন, যা সুস্পষ্ট স্বজনপ্রীতি।

    অপরদিকে, খলিফা হযরত ওসমান (রা.) কর্তৃক স্বগোত্রীয় ব্যক্তিদের নিয়োগদান প্রকৃত অর্থে কোনো সংকীর্ণ স্বজনপ্রীতি ছিল না। তিনি রাষ্ট্রীয় সংহতি ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে বহাল বা নিযুক্ত করেছিলেন। মুয়াবিয়া (রা.)-কে আগেই হযরত ওমর (রা.) সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন, হযরত ওসমান (রা.) শুধু তা বহাল রাখেন। তাছাড়া মিসরের গভর্নর হিসেবে আবদুল্লাহ বিন সাদ যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। বিরোধীরা (বিশেষত আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অনুসারীরা) এই নিয়োগগুলোকে বিকৃত করে রাজনৈতিক স্বার্থে 'স্বজনপ্রীতি' হিসেবে অপপ্রচার চালায় এবং বিদ্রোহের পরিবেশ তৈরি করে।

    অতএব, আরশাদ মিয়ার কর্মকাণ্ড ছিল প্রকৃত স্বজনপ্রীতির পরিচায়ক, কিন্তু হযরত ওসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি ছিল সরল বিশ্বাসে গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অসত্য প্রচারণা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন