ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কত তারিখে পালন করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার- আলবদর বাহিনীর ভূমিকা কি ছিলো? ব্যাখা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের জাতীয় দিবস (স্বাধীনতা দিবস) ২৬ মার্চ তারিখে পালন করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ন্যাক্কারজনক ও দেশবিরোধী ভূমিকা পালন করেছিল।

    এরা পাকিস্তানি সেনাদের পথঘাট চেনানো, মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান শনাক্ত করে আক্রমণ চালানো, নিরীহ বাঙালিদের হত্যা, লুণ্ঠন ও নারীনির্যাতনে সরাসরি সহায়তা করে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের শেষপর্যায়ে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার হীন উদ্দেশ্যে আলবদর বাহিনী দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে অপহরণ ও হত্যা করে। সামগ্রিকভাবে এরা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করে গণহত্যার দোসর হিসেবে কাজ করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সাক্ষী।

    চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ও বাংলাদেশ যৌথবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করছেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে যৌথবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে প্রায় ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে নিয়াজী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেন। এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ, যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও যুগান্তকারী ঘটনা। নিম্নে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়: এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছরের পাকিস্তানি শোষণ, বঞ্চনা ও দুঃশাসনের অবসান ঘটে এবং বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক বিজয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ২. আত্মত্যাগের স্বীকৃতি: দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালি যে আত্মত্যাগ করেছিল, এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তা সার্থকতা পায়।

    ৩. উপনিবেশিক মানসিকতার পরাজয়: পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে দাবিয়ে রাখার যে চক্রান্ত করেছিল, এই ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তাদের সেই অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

    ৪. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি ছিল অন্যতম বৃহৎ ও আনুষ্ঠানিক সামরিক আত্মসমর্পণ। এটি বিশ্বমঞ্চে ন্যায় ও সত্যের লড়াইয়ের বিজয় প্রমাণ করে।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৬ ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণ বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করে স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার এনে দেয়। তাই বাঙালির ইতিহাসে এই ঘটনার তাৎপর্য অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন