ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরুর অব্যবহিত পূর্বে নেতা, হো চি মিন জনগণের উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দেন তাতেই যুদ্ধের প্রস্তুতির সবকিছু তুলে ধরেন। এই ভাষণ থেকেই ভিয়েতনামি জনগণ যুদ্ধ জয়ের মূলমন্ত্র পেয়ে যান। ফলে যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়।
- ক)(1)
মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের রাজধানী কোথায় ছিল?,
- খ)(2)
ইয়াহিয়া সরকার বঙ্গবন্ধুর কাছে কেন ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ভাষণের সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী কোন ভাষণের সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উত্ত ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের রাজধানী ছিল ইসলামাবাদ (কার্যত রাওয়ালপিন্ডি/ইসলামাবাদ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও বাঙালি যাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে না পারে এবং পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কায়েমি স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ইয়াহিয়া সরকার বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।
পশ্চিম পাকিস্তানের পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত ছিল না। তারা সংসদ অধিবেশন স্থগিত করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাঙালির বিজয়কে নস্যাৎ করার চক্রান্ত করে এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে কুক্ষিগত রাখার লক্ষ্যে গণহত্যা চালানোর নীল নকশা আঁকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ভিয়েতনামের নেতা হো চি মিনের ভাষণের সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক '৭ই মার্চের ভাষণ'-এর গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরুর অব্যবহিত পূর্বে হো চি মিন এক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন, যেখানে যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি তুলে ধরা হয় এবং যা যুদ্ধ জয়ের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুর মোকাবিলার প্রেরণা পায়।
একইভাবে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি জাতিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।" বঙ্গবন্ধুর এই অবিস্মরণীয় ভাষণই বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও শত্রুকে প্রতিহত করার মূলমন্ত্র জুগিয়েছিল। ফলে উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উপযুক্ত দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক ভাষণ একটি জাতিকে স্বাধীনতা ও বিজয়ের লক্ষ্যে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করতে পারে—যা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্যকে তুলে ধরে।
হো চি মিনের ভাষণ যেমন ভিয়েতনামিদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল, তেমনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল মূলত বাঙালির অলিখিত স্বাধীনতা ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল। এই ভাষণের মাধ্যমেই সমগ্র বাঙালি জাতি সশস্ত্র সংগ্রামের মানসিক ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
ভাষণটির তাৎপর্য নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. স্বাধীনতার চূড়ান্ত প্রেরণা: বঙ্গবন্ধুর "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" ঘোষণা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রেরণা জোগায়।
২. যুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি: তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশ দেন, যা সাধারণ মানুষকে গেরিলা যুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে।
৩. ঐক্য ও প্রতিরোধ: এই ভাষণের পরই সারা বাংলায় অসহযোগ আন্দোলন রূপ নেয় তীব্র গণপ্রতিরোধে, যা ২৫শে মার্চের কালরাতের পর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়।অতএব, উদ্দীপকের ভিয়েতনামের প্রেক্ষাপটের মতোই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে একটি সশস্ত্র গেরিলা বাহিনীর মতো বিজয়ের লক্ষ্যে পরিচালনা করার ঐতিহাসিক আলোকবর্তিকা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও