মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ফারুক সাহেব তাঁর ক্লাসে বুদ্ধি পরিমাপের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি বলেন, কিছু অভীক্ষা আছে যার দ্বারা একবারে একজন ব্যক্তির বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়। সে ক্ষেত্রে ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা থাকে বেশি। আবার কিছু অভীক্ষা আছে যার দ্বারা একসাথে বহুলোকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়। অন্যদিকে তমা সহজেই সমস্যা সমাধানের নানারকম উপায় বের করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞানও রাখে।
- ক)(1)
বুদ্ধি কী?
- খ)(2)
মেধা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে তমার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ফারুক সাহেব নির্দেশিত অভীক্ষা দুটোর পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুদ্ধি হলো নতুন বা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সফলভাবে মানিয়ে নেওয়া, উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কাজ করা এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করার সামগ্রিক বা সামগ্রিক মানসিক ক্ষমতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মেধা হলো ব্যক্তির জন্মগত বা অর্জিত এক বিশেষ মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ, যার সাহায্যে ব্যক্তি অত্যন্ত দ্রুত শিখতে পারে এবং জটিল বিষয় সহজেই অনুধাবন করতে পারে। মেধার কারণে ব্যক্তি পড়াশোনা, গবেষণা বা বিশেষ কোনো পেশাগত ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি পারদর্শিতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তির সার্বিক বিকাশ ও সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য মেধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তমার আচরণে 'সৃজনশীলতা' (Creativity)-এর প্রকাশ ঘটেছে।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, সৃজনশীলতা হলো গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন, মৌলিক ও ফলপ্রসূ কোনো ভাবনা বা সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা। সৃজনশীল ব্যক্তিবর্গ বহুমুখী চিন্তার (Divergent Thinking) অধিকারী হন, যার ফলে তারা একটি সমস্যারই বহুবিধ উদ্ভাবনী সমাধান দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা থাকে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তমা সহজেই যেকোনো সমস্যা সমাধানের নানারকম উপায় বের করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞানও রাখে। বহুমুখী সমাধান বের করার ক্ষমতা এবং বিষয়ের ওপর গভীর জ্ঞান সৃজনশীলতার প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য (নমনীয়তা ও মৌলিকতা)। সুতরাং, পাঠ্যবইয়ের আলোকে তমার প্রকৃতি হলো সৃজনশীল ব্যক্তি বা সৃজনশীলতার প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফারুক সাহেব ক্লাসে বুদ্ধি পরিমাপের যে দুটি অভীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো 'একক বুদ্ধি অভীক্ষা' (Individual Intelligence Test) এবং 'দলগত বুদ্ধি অভীক্ষা' (Group Intelligence Test)। নিচে এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রয়োগের ক্ষেত্র বা পরিধি: একক বুদ্ধি অভীক্ষা একবারে কেবল একজন ব্যক্তির ওপরই প্রয়োগ করা যায় (যেমন: স্ট্যানফোর্ড-বিনে স্কেল)। পক্ষান্তরে, দলগত বুদ্ধি অভীক্ষা একই সাথে বহু ব্যক্তির ওপর একসাথে প্রয়োগ করা সম্ভব (যেমন: আর্মি আলফা ও আর্মি বিটা টেস্ট)।
২. সময় ও শ্রমের ব্যয়: একক অভীক্ষায় অনেক সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়, কারণ প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদা সময় দিতে হয়। অন্যদিকে, দলগত অভীক্ষায় অল্প সময়ে ও অল্প পরিশ্রমে একসাথে বহু লোকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়, ফলে এটি সাশ্রয়ী।
৩. নির্ভরযোগ্যতা ও গভীর পর্যবেক্ষণ: একক অভীক্ষায় অভীক্ষক পরীক্ষার্থীর মনোযোগ, আবেগ, দ্বিধা ও আচরণ খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, ফলে এর ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না, ফলে ফলাফলে কিছুটা ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা থাকে।
৪. অভীক্ষকের দক্ষতা: একক অভীক্ষা পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ মনোবিজ্ঞানীর প্রয়োজন হয়। দলগত অভীক্ষা পরিচালনার জন্য খুব উচ্চমানের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না; সাধারণ নির্দেশিকা অনুসরণ করেই তা পরিচালনা করা যায়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দেশ্যের ভিন্নতা এবং সময়-সুযোগের ওপর ভিত্তি করে ফারুক সাহেবের নির্দেশিত এই দুটি অভীক্ষার স্বতন্ত্র উপযোগিতা রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও