মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    চল কী?

    (1)
  2. খ)

    নিয়ন্ত্রণ' পরীক্ষণ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য কেন?

    (2)
  3. গ)

    চল নিয়ন্ত্রণে 'খ' অংশটির গুরুত্ব আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চল নিয়ন্ত্রণে 'গ' ও 'ঘ' অংশের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বস্তু, পরিবেশ বা প্রাণীর যে বৈশিষ্ট্য বা গুণ পরিবর্তনশীল এবং পরিমাপযোগ্য, তাকে চল (Variable) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরীক্ষণ পদ্ধতিতে অনির্ভরশীল চলের প্রভাব ছাড়া অন্য সব অপ্রাসঙ্গিক বা বাহ্যিক চলের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় রাখতে হয়, যাতে ফলাফলে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। চলের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া প্রাপ্ত ফলাফলকে নির্ভরযোগ্য বা অনির্ভরশীল চলের যথার্থ ফল হিসেবে গণ্য করা যায় না। এ কারণে 'নিয়ন্ত্রণ' হলো পরীক্ষণ পদ্ধতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকে চল নিয়ন্ত্রণের ৫টি পদ্ধতির মধ্যে 'অপসারণ' এবং 'দৈবচয়ন' দেওয়া আছে। পাঠ্যপুস্তকের ক্রমানুসারে 'খ' চিহ্নিত অংশটি হলো 'স্থির রাখা' (Constancy of conditions)।

    যেসব বাহ্যিক বা মধ্যবর্তী চলকে গবেষণার পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ দূর বা অপসারণ করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে পুরো পরীক্ষণ চলাকালে অপরিবর্তিত বা স্থির রাখা হয়। যেমন—পরীক্ষাগারের তাপমাত্রা, আলোর তীব্রতা, আর্দ্রতা বা শব্দ সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব না হলেও এদের একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় স্থির রাখা যায়। পরীক্ষণ চলাকালীন সকল দলের জন্য পরিবেশের এই প্রভাবগুলো অপরিবর্তিত থাকলে তা ফলাফলে কোনো দলগত পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে অনির্ভরশীল চলের প্রকৃত প্রভাব নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হয়। তাই পরীক্ষণ পদ্ধতিতে চল নিয়ন্ত্রণে 'স্থির রাখা' পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গ' এবং 'ঘ' অংশ দুটি হলো চল নিয়ন্ত্রণের যথাক্রমে 'ভারসাম্যতা রক্ষা' (Balancing / Counterbalancing) এবং 'জোড়াবদ্ধকরণ' বা 'এককেন্দ্রিক দল' (Matching) পদ্ধতি। নিচে এ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: ভারসাম্যতা রক্ষা পদ্ধতিতে বাহ্যিক চলের প্রভাবকে দুই বা ততোধিক দলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে এর প্রভাব নিষ্ক্রিয় করা হয়। অন্যদিকে, জোড়াবদ্ধকরণ পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের (যেমন—বয়স, বুদ্ধাঙ্ক, লিঙ্গ) ভিত্তিতে সমপর্যায়ের জোড়া তৈরি করে একটিকে পরীক্ষণ দলে এবং অন্যটিকে নিয়ন্ত্রিত দলে বণ্টন করা হয়।

    ২. ব্যবহারের ক্ষেত্র: যখন পরীক্ষণ পাত্রদের ক্লান্তি বা অনুশীলনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন হয়, তখন ভারসাম্যতা রক্ষা (যেমন—AB-BA নকশা) অধিক কার্যকর। কিন্তু যখন পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পার্থক্য (যেমন—বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা) পরীক্ষণের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা থাকে, তখন জোড়াবদ্ধকরণ পদ্ধতি বেশি উপযোগী।

    ৩. প্রয়োগের জটিলতা: জোড়াবদ্ধকরণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে উপযুক্ত সমগুণসম্পন্ন পাত্র পাওয়া এবং তাদের সমভাবে বিন্যস্ত করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও জটিল। পক্ষান্তরে, ভারসাম্যতা রক্ষা পদ্ধতিতে দলের ভেতর ক্রমানুসারে চলের পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক।

    সুতরাং, দুটি পদ্ধতির লক্ষ্য এক হলেও (বাহ্যিক চল নিয়ন্ত্রণ করা) পরীক্ষণের প্রকৃতি ও চলের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে এদের প্রয়োগক্ষেত্রে বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন