ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

চেঙ্গিস খান অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ নিষ্ঠুর ব্যক্তি ছিলেন। ইতিহাসে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তিনি অনেক সময় অমূলক সন্দেহের বশবর্তী হয়েও তার অনেক কাছের বিশ্বস্ত মানুষকে হত্যা করেছেন। রাজবংশ ও সাম্রাজ্য শাসনের সুবিধার পাশাপাশি রাজধানীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজধানী কারাকোরাম থেকে পিকিং-এ স্থানান্তর করেন এবং নতুন রাজধানীকে বিভিন্নভাবে সজ্জিত করেন।

  1. ক)

    সহস্র আরব্য রজনীর নায়ক কে?

    (1)
  2. খ)

    আবুল আব্বাসকে 'আস-সাফফাহ' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    চেঙ্গিস খানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে কোন আব্বাসীয় খলিফার চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "কুবলাই খান ও খলিফা আল-মনসুরের রাজধানী স্থানান্তরের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন"-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সহস্র আরব্য রজনীর (বা 'আরব্য রজনী'/'এক হাজার এক রাত') নায়ক হলেন বিখ্যাত আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আবুল আব্বাস ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি উমাইয়াদের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ঠুর ও রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান পরিচালনা করেন। উমাইয়া বংশের অধিকাংশ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা এবং ব্যাপক রক্তপাত ঘটানোর কারণে তাঁকে 'আস-সাফফাহ' বলা হয়, যার অর্থ 'রক্তপিপাসু' বা 'রক্তপাতকারী'。

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত চেঙ্গিস খানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের (সন্দেহপ্রবণতা, অমূলক সন্দেহে ঘনিষ্ঠজনদের হত্যা) সাথে আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের চরিত্রের গভীর মিল রয়েছে।

    আব্বাসীয় খিলাফতকে সুসংহত ও নিরাপদ করতে গিয়ে খলিফা আল-মনসুর অত্যন্ত কঠোর, নিষ্ঠুর এবং সন্দেহপ্রবণ মনোভাবের পরিচয় দেন। তিনি সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি মনে করে যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে নির্মূল করেন। এমনকি আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত সমরনায়ক আবু মুসলিমের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে তাঁকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে দরবারে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন। একইভাবে তিনি আরেক বিশ্বস্ত সেনাপতি ও শুভাকাঙ্ক্ষী সুনবাধসহ অনেককে হত্যা করেন।

    উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের ক্ষেত্রেও দেখা যায় তিনি অমূলক সন্দেহের বশে অনেক বিশ্বস্ত মানুষকে হত্যা করেছেন। তাই খলিফা আল-মনসুরের চরম সন্দেহপ্রবণ ও নিষ্ঠুর রাজনৈতিক পদক্ষেপের সাথে চেঙ্গিস খানের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কুবলাই খান (উদ্দীপকে বর্ণিত স্থানান্তরকারী মঙ্গল শাসক) এবং আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের রাজধানী স্থানান্তরের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সুবিধার দিক থেকে সম্পূর্ণ অভিন্ন ছিল—উক্তিটি যথার্থ।

    খলিফা আল-মনসুরের সময়ে পূর্ববর্তী রাজধানী কুফা ও আল-হাশিমিয়া আব্বাসীয়দের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। কুফায় উমাইয়া সমর্থক এবং শিয়াদের ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং তথাকার জনগণ ছিল চঞ্চল ও বিদ্রোহপ্রবণ। এছাড়া রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের চরমপন্থীদের গোলযোগ খলিফার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এ পরিস্থিতিতে আল-মনসুর সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সুষ্ঠু শাসন পরিচালনার লক্ষ্যে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মিলনস্থলে এক কৌশলগত স্থানে নতুন রাজধানী বাগদাদ ('দারুস সালাম') প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজধানী সেখানে স্থানান্তর করেন। সেখানে সুরম্য প্রাসাদ ও সুরক্ষিত দুর্গ গড়ে তোলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, শাসক কুবলাই খানও সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং শাসনকাজের সুবিধার জন্য পূর্বের রাজধানী কারাকোরাম থেকে স্থান পরিবর্তন করে পিকিং-এ (বর্তমান বেইজিং) নতুন রাজধানী স্থানান্তর ও সুসজ্জিত করেন।

    উভয় শাসকের পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের রাজধানী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য কোনো বিলাসিতা ছিল না; বরং তা ছিল রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিদ্রোহী উপদলের হাত থেকে শাসনকেন্দ্রকে নিরাপদ রাখা এবং সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করা। সুতরাং বলা যায়, কুবলাই খান ও খলিফা আল-মনসুরের রাজধানী স্থানান্তরের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ অভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন