কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রাক্ষুসে মাছ কী?
- খ)(2)
নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
চিত্রে প্রদর্শিত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটি পুকুরে চাষ করা কি লাভজনক? তোমাদের উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মাছ স্বভাবগতভাবেই মাংসাশী এবং অন্যান্য ছোট মাছ ও পোনা খেয়ে ফেলে, তাদের রাক্ষুসে মাছ বলে (যেমন— বোয়াল, শোল, গজার ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ দ্রুত পচনশীল একটি খাদ্যদ্রব্য। আহরণের পরপরই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও এনজাইমের ক্রিয়াকলাপে মাছের গুণগত মান নষ্ট হতে শুরু করে। নিরাপদ উপায়ে মাছ সংরক্ষণ করলে মাছের পচন রোধ হয়, পুষ্টিমান ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে, ক্ষতিকর রাসায়নিক বা জীবাণুর সংক্রমণ থেকে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং বাণিজ্যিক অপচয় রোধ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই নিরাপদ মাছ সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত মাছটি হলো রাজপুঁটি বা থাই সরপুঁটি।
মাছটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দৈহিক গঠন: এর দেহ মাঝারি আকারের ও কিছুটা চাপা। পিঠের দিক বাঁকানো এবং উজ্জ্বল রুপালি বর্ণের। পেট কিছুটা সাদাটে।
২. দ্রুত বর্ধনশীল: দেশি সরপুঁটির তুলনায় রাজপুঁটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। উপযুক্ত খাদ্য ও পরিচর্যা পেলে ৫-৬ মাসে এর ওজন ২৫০-৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।
৩. খাদ্যাভ্যাস: রাজপুঁটি সর্বভুক ও বিশেষ করে তৃণভোজী স্বভাবের মাছ। এরা নরম জলজ ঘাস, কুঁড়িপানা, শেওলা, কলাপাতা ইত্যাদি খেতে খুব পছন্দ করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সহনশীলতা: এ মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং এরা স্বল্প গভীর ও তুলনামূলক কম অক্সিজেনের পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে।
৫. স্তরের স্বভাব: এরা সাধারণত জলাশয়ের মধ্য ও উপরের স্তরের খাবার গ্রহণ করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছটি (রাজপুঁটি বা থাই সরপুঁটি) পুকুরে চাষ করা অত্যন্ত লাভজনক।
আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দ্রুত বৃদ্ধি ও স্বল্প চাষকাল: রাজপুঁটি খুব দ্রুত বাড়ে। পোনা ছাড়ার মাত্র ৩-৫ মাসের মধ্যেই এটি বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। ফলে বছরে একই পুকুর থেকে একাধিকবার ফসল তোলা সম্ভব হয়।
২. স্বল্প খরচে খাবার সরবরাহ: রাজপুঁটি প্রধানত তৃণভোজী। এরা কুঁড়িপানা, হেলেঞ্চা, টোপাপানা ও বিভিন্ন নরম ঘাস খেয়ে থাকে, যা সহজেই প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ করা যায়। ফলে সম্পূরক খাদ্যের খরচ অনেক কম হয়।
৩. মিশ্র চাষের উপযোগী: এটি রুই, কাতলা বা কার্পজাতীয় মাছের সাথে সহজেই মিশ্র চাষ করা যায়। এতে পুকুরের বিভিন্ন স্তরের খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৪. প্রতিকূল পরিবেশে সহনশীলতা: মৌসুমি পুকুর বা ছোট ডোবা, যেখানে ৪-৬ মাস পানি থাকে, সেখানেও এর সফল চাষ সম্ভব।
৫. সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় বাজারদর: বাজারে রাজপুঁটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে এটি ভালো দামে দ্রুত বিক্রি করা যায়।অতএব, স্বল্প পুঁজিতে কম সময়ে বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য রাজপুঁটি চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও