ভূগোল ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০১৯
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রাকৃতিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা ভূআলোড়ন ও তার ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করে। অনুরূপভাবে অন্য একটি শাখা সমুদ্র তলদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূমিরূপ ও সমুদ্রস্রোত নিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
ভূমিরূপবিদ্যা কী?
- খ)(2)
প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাদ্বয়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূগোলের যে শাখায় ভূপৃষ্ঠের ভূমিরূপের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, গঠন এবং রূপান্তরকারী বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা করা হয়, তাকে ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক ভূগোল হলো ভূগোলের অন্যতম প্রধান শাখা যা পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপাদান এবং পরিবেশের ভৌত প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এর প্রকৃতি মূলত গতিশীল ও বৈজ্ঞানিক। প্রাকৃতিক ভূগোল অশ্মমণ্ডল, বারিমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল এবং জীবমণ্ডলের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও এদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিশদভাবে পর্যালোচনা করে। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তন, জলবায়ুগত বিন্যাস এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করে মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গঠনে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রথমে উল্লিখিত শাখাটি হলো 'ভূমিরূপবিদ্যা' (Geomorphology), যা ভূ-আলোড়ন ও এর ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করে।
প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে ভূমিরূপবিদ্যার গুরুত্ব অপরিসীম:
১. ভূমিরূপ সম্পর্কে জ্ঞান: পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদির গঠন, উৎপত্তি ও পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভূমিরূপবিদ্যা অপরিহার্য।
২. ভূ-অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুধাবন: ভূকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-আলোড়ন এবং পাত সংস্থান (প্লেট টেকটনিক্স) তত্ত্বের মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে এ শাখা সহায়তা করে।
৩. মানবকল্যাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ভূমিকম্প, ভূমিধস বা নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ ও ঝুঁকি নির্ণয় করে সঠিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো (যেমন- সেতু, বাঁধ, রাস্তাঘাট) নির্মাণে ভূমিরূপবিদ্যার জ্ঞান সরাসরি প্রয়োগ করা হয়।
অতএব, ভূপৃষ্ঠের ভৌত অবস্থা বুঝতে ও মানবকল্যাণে এর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভূমিরূপবিদ্যার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক ভূগোলের শাখাদ্বয় হলো 'ভূমিরূপবিদ্যা' (Geomorphology) এবং 'সমুদ্রবিজ্ঞান' (Oceanography)। এ দুটি শাখার মধ্যে বিষয়বস্তু ও ক্ষেত্রগত বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান:
১. আলোচনার ক্ষেত্র: ভূমিরূপবিদ্যা প্রধানত পৃথিবীর স্থলভাগ বা অশ্মমণ্ডলের ভূমিরূপের উৎপত্তি, বিকাশ ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। পক্ষান্তরে, সমুদ্রবিজ্ঞান পৃথিবীর বারিমণ্ডল তথা সমুদ্রের তলদেশের ভূপ্রকৃতি, মহাসাগর ও উপসাগর নিয়ে আলোচনা করে।
২. বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য: ভূমিরূপবিদ্যায় পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, নদী, হিমবাহ ও বায়ুর ক্ষয় এবং সঞ্চয়কাজের মাধ্যমে সৃষ্ট ভূমিরূপ ও পাত সঞ্চালন নিয়ে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে, সমুদ্রবিজ্ঞানে সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপ (যেমন- মহীসোপান, মহীঢাল, গভীর সমুদ্রের সমভূমি, সামুদ্রিক খাত), সমুদ্রস্রোত, জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের লবণাক্ততা ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
৩. প্রায়োগিক দিক: ভূমিরূপবিদ্যার জ্ঞান মূলত খনিজ অনুসন্ধান, নগর পরিকল্পনা, কৃষি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, সমুদ্রবিজ্ঞানের জ্ঞান সমুদ্রের তলদেশের খনিজ ও তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ, নৌ-চলাচল এবং নীল অর্থনীতি (Blue Economy) পরিচালনায় সাহায্য করে।
সুতরাং, উভয় শাখাই প্রাকৃতিক ভূগোলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এদের অধ্যয়নের পরিধি, উপাদান এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও