ভূগোল ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর বোর্ড ২০২২

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    খনিজ সম্পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক বলয়ে' উত্তোলিত খনিজটির উৎপাদন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতিতে ভূত্বকে বা ভূগর্ভে শিলাস্তরের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনবিশিষ্ট অজৈব পদার্থকে খনিজ সম্পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে মূলত খরস্রোতা নদীর প্রবহমান পানির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম জলাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। এই জলাধারে সঞ্চিত পানির প্রবল স্রোত এবং উচ্চতা থেকে পতনের ফলে সৃষ্ট জলপ্রবাহের গতিশক্তি দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটি পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মানচিত্রে প্রদর্শিত 'ক বলয়'টি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে নির্দেশ করে, যার প্রধান উত্তোলিত খনিজটি হলো খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম।

    মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেল উৎপাদন বর্ণনা:
    মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেলের মজুতের অর্ধেকেরও বেশি এবং বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ অঞ্চল থেকে আসে। এ অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো হলো:
    ১. সৌদি আরব: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ। এখানকার প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ঘাভার (বিশ্বের বৃহত্তম স্থল তেলক্ষেত্র), সাফানিয়া, আবেকাইক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
    ২. ইরাক: কিরকুক, রুমাইলা ও জুবায়ের ইরাকের প্রধান তেল উৎপাদনকারী কেন্দ্র।
    ৩. ইরান: দেশটির আহওয়াজ, গাচসারান, মারুন ও আগাজারি প্রধান তেলক্ষেত্র।
    ৪. কুয়েত: বুরগান ক্ষেত্রটি কুয়েতের প্রধান তেল উৎপাদনকারী ক্ষেত্র।
    ৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবি এবং দুবাই এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল।
    এছাড়াও কাতার ও ওমান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল উত্তোলন করে। এ অঞ্চলের তেল উত্তোলন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে এর উৎপাদন ও সরবরাহ অত্যন্ত প্রভাবশালী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খনিজটি হলো খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম। আধুনিক বিশ্বে যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে খনিজ তেলের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শক্তির মূল উৎস: বর্তমান বিশ্বের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার (স্থল, জল ও আকাশপথের যানবাহন) মূল চালিকাশক্তি হলো তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েল।
    ২. শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় এবং শিল্পকারখানার ভারী যন্ত্রপাতি সচল রাখতে জ্বালানি হিসেবে খনিজ তেল অপরিহার্য।
    ৩. পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল: তেল শোধনাগারের উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট থেকে প্লাস্টিক, কৃত্রিম তন্তু, কৃত্রিম রবার, কীটনাশক, সার, রঙের মতো হাজারো প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সামগ্রী উৎপাদিত হয়।
    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রাজস্ব: মধ্যপ্রাচ্যসহ বহু তেল রপ্তানিকারক দেশ তেল রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে এবং তাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ তেল অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল।
    ৫. কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য: তেল অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন ও বিপণন প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তেল বাণিজ্যের উত্থান-পতনের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

    সুতরাং, আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে খনিজ তেলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন