ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্য-সামগ্রীর বাজার দখলকে কেন্দ্র করে উপনিবেশবাদের উত্থান ঘটে। উপনিবেশবাদ থেকে সাম্রাজ্যবাদ অতঃপর উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং পরিশেষে যুদ্ধের ভয়াবহতায় মেতে ওঠে সারা বিশ্ব।
- ক)(1)
রুশ বিপ্লব কখন সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
"Triple Alliance' কী? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার পটভূমি পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Triple Alliance' বা ত্রিশক্তি চুক্তি হলো ১৮৮২ সালে জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং ইতালির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি গোপন পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি।
জার্মান চ্যান্সেলর অটো ভন বিসমার্ক ফ্রান্সকে ইউরোপীয় রাজনীতিতে মিত্রহীন ও বিচ্ছিন্ন করে রাখার উদ্দেশ্যে এবং যেকোনো বহিরাগত আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালিকে সাথে নিয়ে এই যৌথ সামরিক বলয় গড়ে তুলেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত 'প্রথম বিশ্বযুদ্ধ' (১৯১৪–১৯১৮) সংঘটনের পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে ইংল্যান্ডে সূচিত শিল্পবিপ্লব ইউরোপের উৎপাদন ব্যবস্থাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের জন্য শুরু হয় উপনিবেশ দখল এবং এর সূত্র ধরে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন। এই সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯১৪ সালে শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার দখলের প্রতিযোগিতা থেকে উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এবং শেষ পর্যন্ত সারা বিশ্বের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমির সাথে সম্পূর্ণরূপে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে এই রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধের পটভূমি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সাম্রাজ্যবাদী ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব: অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাঁচামাল ও বাজারের অভাব দেখা দেয়। ফলে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও পরবর্তীতে জার্মানির মধ্যে এশিয়া ও আফ্রিকায় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার উগ্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
২. সামরিক জোট গঠন: ইউরোপ প্রধান দুটি সামরিক ব্লকে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একপক্ষে ১৮৮২ সালে জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি ও ইতালির সমন্বয়ে গঠিত হয় 'ত্রিশক্তি চুক্তি' (Triple Alliance); অন্যপক্ষে ১৯০৭ সালে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হয় 'ত্রিশক্তি আঁতাত' (Triple Entente)।
৩. উগ্র জাতীয়তাবাদ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা: বলকান অঞ্চলে স্লাভ ও জার্মান জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার উগ্র জাতীয়তাবাদী মনোভাব উত্তেজনা তৈরি করে। পাশাপাশি পরাশক্তিগুলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বিপুল পরিমাণ আধুনিক মারণাস্ত্র তৈরি ও মজুত করতে থাকে।
৪. প্রত্যক্ষ কারণ: ১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে এক সার্বীয় আততায়ীর হাতে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ সস্ত্রীক নিহত হন। এর প্রেক্ষিতে অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার ওপর আক্রমণ চালায় এবং পূর্ববর্তী সামরিক চুক্তিগুলোর কারণে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো ক্রমান্বয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
সুতরাং, সাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা, সামরিক জোট ও উগ্র জাতীয়তাবাদের দীর্ঘ পটভূমির ওপর দাঁড়িয়ে সারায়েভো হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও